সেকশনস

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস

আপডেট : ৩০ জুন ২০২০, ১৫:৩৪

বাজেট ২০২০-’২১ নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২০ পাসের মধ্য দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ বিল পাস হয়। বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে ২০২০-২১ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর একে একে অন্য মন্ত্রীরা তাদের স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কণ্ঠভোটে সে সব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সর্বশেষ নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে বাজেট পাস হয়। এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংসদে সরকারি বিরোধীদলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২০ জাতীয় সংসদে পাস করার জন্য উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে তা পাস হয়। এ সময় সংসদে উপস্থিত সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। 

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’। বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। করোনা পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন (ছবি: ফোকাস বাংলা)

বাজেটে জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। বাজেট ব্যয়ের জন্য মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। এই বাজেটে ঘাটতির (অনুদানসহ) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা, এটি মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ। এটি এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এরমধ্যে আবর্তক ব্যয় হচ্ছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এ আবর্তক ব্যয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে খরচ হবে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। এছাড়া সম্পদ সংগ্রহ, ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ ও পূর্তকাজ, শেয়ার ও ইক্যুইটিতে বিনিয়োগসহ মূলধনী ব্যয় হবে ৩৬ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ঋণ ও অগ্রিম বাবদ ব্যয় ৪ হাজার ২১০ কোটি টাকা।

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যয় মেটাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কর রাজস্ব আহরণ করতে হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর বাদে প্রাপ্তির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ হাজার ৩ কোটি টাকা। আয়ের দিক থেকে আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

জানা গেছে, এবারের বাজেটে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ আরও শিথিল করে গতকাল সোমবার (২৯ জুন) অর্থবিল ২০২০ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বিনিয়োগের টাকা তিন বছর বাজারে ধরে রাখার (লক-ইন) শর্ত দেওয়া হয়েছিল। দুই বছর কমিয়ে এখন শুধু এক বছর করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে কোনও জরিমানা ছাড়া শুধু ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। অর্থনীতির মূলধারায় অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর স্বার্থের কথা বলে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন।

সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্যান্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও একই সুযোগ রাখা হয়। বলা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ এসব খাতে বিনিয়োগ করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বা সরকারের অন্য কোনও দফতর টাকার উৎস জানতে চাইবে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু শর্ত ছিল তিন বছর ধরে রাখার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বালাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) লক-ইনের শর্ত পুরোপুরি তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।

আরও পড়ুন- 

‘বাজেট বাস্তবায়নে অতীতেও ব্যর্থ হইনি, ভবিষ্যতেও হবো না’

জেনেশুনেই কঠিনেরে ভালোবেসেছি: অর্থমন্ত্রী

/এসআই/এফএস/এমএমজে/

সম্পর্কিত

বাপা’র সভাপতি মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল

বাপা’র সভাপতি মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল

‘মিয়ানমার তোষণ নীতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যাহত হচ্ছে’

‘মিয়ানমার তোষণ নীতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যাহত হচ্ছে’

আবরার হত্যা মামলা: দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ

আবরার হত্যা মামলা: দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ

এখন লাগবে ৬৯-এর মতো গণঅভ্যুত্থান: মান্না

এখন লাগবে ৬৯-এর মতো গণঅভ্যুত্থান: মান্না

ফরিদপুর মেডিক্যালে যন্ত্রপাতি ‘নষ্ট করার প্রবণতা’ পেয়েছে সংসদীয় কমিটি

ফরিদপুর মেডিক্যালে যন্ত্রপাতি ‘নষ্ট করার প্রবণতা’ পেয়েছে সংসদীয় কমিটি

ডাকাতির পর হত্যা, ২ আসামির দোষ স্বীকার

ডাকাতির পর হত্যা, ২ আসামির দোষ স্বীকার

‘অ্যামচ্যাম ফ্রন্টলাইন জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের সাদ্দিফ অভি

‘অ্যামচ্যাম ফ্রন্টলাইন জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের সাদ্দিফ অভি

একমুখী শিক্ষার পথ তৈরি করছি: শিক্ষামন্ত্রী

একমুখী শিক্ষার পথ তৈরি করছি: শিক্ষামন্ত্রী

বাইরে ভ্যাকসিন পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই: পাপন

বাইরে ভ্যাকসিন পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই: পাপন

সর্বশেষ

কালিয়ায় নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি ক্যাম্পে আগুন

কালিয়ায় নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি ক্যাম্পে আগুন

জাল ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা, ভারতীয় নাগরিক আটক

জাল ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা, ভারতীয় নাগরিক আটক

শিশু ধর্ষণের মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন

শিশু ধর্ষণের মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন

জলবায়ু পরিবর্তনে নারী চ্যাম্পিয়নদের না বলা গল্প

জলবায়ু পরিবর্তনে নারী চ্যাম্পিয়নদের না বলা গল্প

ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইতালির

ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইতালির

মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় যেসব খাবার

মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় যেসব খাবার

শিক্ষকরা দেশের আলোকিত মানবসম্পদ উৎপাদনের কারিগর: চবি উপাচার্য

শিক্ষকরা দেশের আলোকিত মানবসম্পদ উৎপাদনের কারিগর: চবি উপাচার্য

খুবি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন

খুবি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন

৬০০ পর্বে ‘চাপাবাজ’

৬০০ পর্বে ‘চাপাবাজ’

অনশনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা চেয়ে আবেদনের আহ্বান কেসিসি মেয়রের

অনশনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা চেয়ে আবেদনের আহ্বান কেসিসি মেয়রের

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেলো স্কুলছাত্রী

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেলো স্কুলছাত্রী

রায়পুরায় আড়িয়াল খাঁ নদে সেতু নির্মাণের দাবি

রায়পুরায় আড়িয়াল খাঁ নদে সেতু নির্মাণের দাবি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘মিয়ানমার তোষণ নীতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যাহত হচ্ছে’

‘মিয়ানমার তোষণ নীতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যাহত হচ্ছে’

ফরিদপুর মেডিক্যালে যন্ত্রপাতি ‘নষ্ট করার প্রবণতা’ পেয়েছে সংসদীয় কমিটি

ফরিদপুর মেডিক্যালে যন্ত্রপাতি ‘নষ্ট করার প্রবণতা’ পেয়েছে সংসদীয় কমিটি

একমুখী শিক্ষার পথ তৈরি করছি: শিক্ষামন্ত্রী

একমুখী শিক্ষার পথ তৈরি করছি: শিক্ষামন্ত্রী

বাইরে ভ্যাকসিন পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই: পাপন

বাইরে ভ্যাকসিন পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই: পাপন

কেনা ভ্যাকসিন আসছে কাল, রাখা হবে টঙ্গীতে

কেনা ভ্যাকসিন আসছে কাল, রাখা হবে টঙ্গীতে

অচিরেই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করবে দেশের চলচ্চিত্র: তথ্যমন্ত্রী

অচিরেই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করবে দেশের চলচ্চিত্র: তথ্যমন্ত্রী


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.