জেনেশুনেই কঠিনেরে ভালোবেসেছি: অর্থমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০৩, জুন ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৮, জুন ২৯, ২০২০

সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (ফাইল ছবি)২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘এই বাজেটটি বাস্তবায়নে আমাদের দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবেন, যারা আমাদের প্রাণশক্তি। আমরা প্রমাণ করবো, এত বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা জেনেশুনেই কঠিনেরে ভালোবেসেছি।’

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হলে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম কাদের জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছরের প্রত্যেকটি বাজেটে আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তার চাইতে প্রকৃত অর্জন আরও অনেক বেশি ছিল। গত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ। যা বিশ্বে সবার ওপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চীন। সেখানে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭৭ শতাংশ। আর ভারত ছিল ১১৭ শতাংশে। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে তিনগুণ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছর অটোমেশন শুরু করেছিলাম। শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এই করোনার জন্য তা শেষ হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, যত দ্রুত সম্ভব এই বছর এটা আমরা বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বারবার একটি কথা উঠে আসে যে আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপির অনুপাত ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ শতাংশের নিচে না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি আমরা ১৪ ভাগে উঠতে পারি, তাহলে আমাদের বছরে আমরা অর্জন করতে পারি আরও এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরও বেশি করতে পারলে তো আরও বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য আমাদের অটোমেশন দরকার।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট উপস্থাপনের সাত দিন পরেই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরেকটি গবেষণা করে। সেখানে তারা দেখিয়েছেন, এ বছর বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আমাদের প্রক্ষেপণ হলো ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আমাদের কাছাকাছি তাদের প্রক্ষেপণ। সুতরাং, আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ, আমরা সক্ষম হবো আমাদের এই বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্য জোগান দিতে পারবো ইনশাল্লাহ। আমাদের কঠোর পরিশ্রমের আত্মপ্রত্যয়ী কৃষক ভাইদের কারণে অতিসম্প্রতি আমরা ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনে আমাদের অবস্থান করে নিয়েছি। গত ৫০ বছরে আমাদের খাদ্য উৎপাদন  বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ। যা বিশ্বে একটি রেকর্ড।’

তিনি বলেন, ‘কোভিডের কারণে যারা কাজ হারিয়েছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে, তাঁতী, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ সব পেশার মানুষ; পান দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, কুটির এবং ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী সব শ্রেণির নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্যই এবারের বাজেট। এ দেশের কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত আমাদের বাজেট ঘাটতিও।’

গত ১১ জুন সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই বাজেট পাস হবে। ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন- ‘বাজেট বাস্তবায়নে অতীতেও ব্যর্থ হইনি, ভবিষ্যতেও হবো না’

/এসআই/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X