X

সেকশনস

বেঁচে থাকবেন মাহমুদুল বাসার

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৭:১৮

লেখক মাহমুদুল বাসার চলে যাওয়ার আজ তিন বছর। মাহমুদুল বাসার ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক। তিনি ১৯৫৬ সালের ২৬ জুন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আবদুল করিম মিয়া, মা মরহুমা লালমতি বেগম। ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর  চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারে মারা যান তিনি।

১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মানসহ বাংলায় এম.এ পাস করেন। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর চাঁদপুর জেলার নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি কলেজ এবং হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ জাতীয় পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত কলাম ও প্রবন্ধ লিখতেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাগুলোই গ্রন্থের মধ্যে সংকলিত হয়েছে। এতে প্রকাশ পেয়েছে তার মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের সুগভীর বিশ্বাস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবলম্বন করেই গড়ে উঠেছে মাহমুদুল বাসারের লেখক সত্তা।

তিনি প্রচারবিমুখ একজন লেখক ছিলেন—সব সময় নীরবে কাজ করে গেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন একটি প্রাগ্রসর, মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজের। তার লেখায় এর ছাপ স্পষ্ট। একজন মননশীল লেখক ছিলেন অধ্যাপক মাহমুদুল বাসার।

তিনি রাষ্ট্র এবং সাহিত্য নিয়ে ১০টিরও বেশি বই লিখে গেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে : ‘বাংলা ভাষা থেকে বাংলাদেশ’, ‘বঙ্গজননী ফজিলাতুন্নেছা’, ‘সিরাজউদ্দৌলা থেকে শেখ মুজিব’, ‘জীবনশিল্পী জহির রায়হান’, ‘স্বকাল ও সমকাল, রবীন্দ্রনাথের ইংরেজ বিরোধিতা’, ‘বাংলাদেশের কথাসাহিত্য’, ‘সন্তোষ গুপ্ত : মুক্তচিন্তার প্রহরী’, ‘স্বাধীনতার স্থপতি’, ‘রেনেসাঁ যুগের বঙ্গের কিছু কথা এবং অতঃপর’।

তিনি বিখ্যাত লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়েও বই লিখেছেন। তার প্রতিটি বইই অত্যন্ত মননশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জহির রায়হান, সন্তোষ গুপ্ত ও আবদুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে তার কাজ অনবদ্য। আমার বিশ্বাস এই বইগুলোই লেখক মাহমুদুল বাসারকে বাঁচিয়ে রাখবেন।

মাহমুদুল বাসারের অন্য একটি পরিচিত প্রবন্ধ হলো ‘রবীন্দ্রনাথের ইংরেজিবিরোধিতা’। তিনি সেখানে ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—‘যতগুলো প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম সংকলিত হয়েছে, তার অধিকাংশই জাতীয় পত্রিকাগুলোতে ছাপা হয়েছে। দুই একটা হয়তো ছাপা হয়নি। যেমন ‘ডক্টর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আসামী’ নিবন্ধটি। বইটির প্রথম প্রবন্ধ ‘রবীন্দ্রনাথের ইংরেজিবিরোধিতা’, এই নামেই বইটির নামকরণ। তাছাড়া আমি লেখালেখির ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মুক্তিবুদ্ধির চেতনায় বিশ্বাসী, প্রতিটি প্রবন্ধ-নিবন্ধে তার ছাপ আছে।

লেখা বিবেকেরই প্রতিধ্বনি, বিবেক তৈরি হয় সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে, আমিও আমার কালের প্রলয়-নৃত্যের মতো ঘটনার দ্বারা প্রবাহিত হয়ে বিবেকের প্রতিধ্বনি করেছি। লেখাগুলো এরই নিরপেক্ষতা।

হয়তো নিরপেক্ষতা বলতে কিছুই নেই, কিন্তু লেখকদের দায়িত্ব সত্য উচ্চারণ করা, আমিও প্রতিটি লেখায় সত্য বলে যা জেনেছি, তাকে তুলে ধরেছি। বিকৃত ও জবরদস্তি বলে যা জেনেছি তাকে ঘৃণা করেছি। তার বিরোধিতা করেছি।’

প্রয়াত কলামিস্ট মাহমুদুল বাসার ‘সিরাজউদ্দৌলা থেকে শেখ মুজিব’ শিরোনামের প্রবন্ধগ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার আমি একজন অনুরাগী। এই চেতনাকে অবলম্বন করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর বাঙালিত্বকে যেমন অস্বীকার করা হয়েছে, তেমনি বাঙালিয়ানার যাবতীয় উপাদান, ঐতিহ্যকে চুরমার করে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় প্রয়াস হয়েছে। সে প্রয়াস থামেনি। আমি সেই দুষ্কালের প্রহরে অনুসন্ধিৎসু হই, আমাদের বাঙালি লেখকদের মধ্যে বাঙালিয়ানাটা কেমন ছিলো?  দীর্ঘ সময় ধরে নানা জনের ওপর লিখে পত্রিকায় ছাপি।’

মাহমুদুল বাসার ৬২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন বইয়ের মাঝে। 

//জেডএস//

সম্পর্কিত

আমার হৃদয়ে তার সোনালি স্বাক্ষর

আমার হৃদয়ে তার সোনালি স্বাক্ষর

মায়া তো মায়াই, যত দূরে যায়...

মায়া তো মায়াই, যত দূরে যায়...

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

বিদায় নক্ষত্রের আলো রাবেয়া খাতুন

বিদায় নক্ষত্রের আলো রাবেয়া খাতুন

২০২১ আরও দিশাহীন করে তুলতে পারে

২০২১ আরও দিশাহীন করে তুলতে পারে

কিম কি দুক : কোরিয়ান নিউ ওয়েভের যাযাবর

কিম কি দুক : কোরিয়ান নিউ ওয়েভের যাযাবর

সময় ও জীবনের সংবেদী রূপকার

সময় ও জীবনের সংবেদী রূপকার

প্রসঙ্গ সৈয়দ হকের কাব্যনাট্য

প্রসঙ্গ সৈয়দ হকের কাব্যনাট্য

সর্বশেষ

আমার হৃদয়ে তার সোনালি স্বাক্ষর

আমার হৃদয়ে তার সোনালি স্বাক্ষর

মায়া তো মায়াই, যত দূরে যায়...

মায়া তো মায়াই, যত দূরে যায়...

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

দুটো চড়ুই পাখির গল্প

দুটো চড়ুই পাখির গল্প

থমকে আছি

থমকে আছি

সালেক খোকনের নতুন বই ‘অপরাজেয় একাত্তর’

সালেক খোকনের নতুন বই ‘অপরাজেয় একাত্তর’

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.