মেট্রোরেলের সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা

ড. আদিল মুহাম্মদ খান
২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:৪৪আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:৫৬

ঢাকার যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেল এখন নতুন বাস্তবতা। ২৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এমআরটি-৬ লাইনের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের রেল যোগাযোগ। আমরা সবাই জানি, ঢাকাবাসীর জন্য সবচেয়ে বিড়ম্বনার নাম যানজট। অনেকেই প্রত্যাশা করছেন, মেট্রোরেল ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারবে, সরকারেরও প্রত্যাশার জায়গা সেটাই। বাস্তবিকই কি মেট্রোরেল যানজট সমস্যা নিরসনের ক্ষেত্রে ঢাকা শহরে বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে– অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা রয়েছে।  

আবার মেট্রোরেল ও মেট্রো স্টেশনের চারপাশ ঘিরে ভূমি ব্যবহার, আবাসন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ঢাকার টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং বাসযোগ্যতা বাড়াতে এই পরিবর্তন কেমন ভূমিকা রাখতে পারে, কীভাবে সঠিক নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেলের সর্বোচ্চ উপযোগিতা নিশ্চিত করা যায় – সে বিষয়গুলোও নির্মোহ বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

মেট্রোরেল ও ঢাকার যোগাযোগ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা

ঢাকা শহরের মেট্রোরেল পরিকল্পনার আলোচনায় ঢাকার বাতাসে কান পাতলে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম আলোচনা শুনতে পাওয়া যায়। মেট্রোরেল সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরের নিচে গণমানুষের মন্তব্যেও ঢাকার যোগাযোগ নিয়ে মানুষের ভাবনায় যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকার যোগাযোগ ও যানজটের সমাধানের বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও মনের ভাবের প্রতিফলন পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ ঢাকার মতো শহরে মেট্রোরেল অর্থনৈতিকভাবে কতটা উপযোগী, পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা কতটা বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী, ঢাকার কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) প্রস্তাবিত ব্যয়সাশ্রয়ী ও সহজসাধ্য বাস রুট রেশনালাইজেশন ও মানসম্মত বাস সার্ভিস তৈরি করার প্রস্তাবনাগুলো এত বছরেও কেন বাস্তবায়ন করা গেলো না, এই শহরে কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করতে মেট্রোরেলের আর কী ধরনের বিকল্প ছিল, শহরের যানজট সমাধানে আমাদের এই শহরে মেট্রোরেলের কয়টা লাইন দরকার, টঙ্গী থেকে এয়ারপোর্ট-তেজগাঁও হয়ে কমলাপুর ও নারায়ণগঞ্জ – বিদ্যমান এই রেল নেটওয়ার্কে কার্যকরভাবে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস কেন আমরা করতে ব্যর্থ হলাম কিংবা কেন এ ব্যাপারে আমরা তেমন একটা আগ্রহ দেখাইনি– এই বিষয়গুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ।

মেট্রোরেলের শুভ সূচনালগ্নে অতি গুরুত্বপূর্ণ এসব আলোচনাকে আমরা আপাতত দূরে সরিয়ে রাখি।  

ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেট্রোরেলের প্রভাব

আমরা আশা করছি, মেট্রোরেল ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করবে। ঢাকার পরিকল্পনাগত বাস্তবতায় প্রথম দফায় মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের রেল যোগাযোগ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ও যানজট নিরসনে হয়তো বড় কোনও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারবে না। আগারগাঁও না হয়ে প্রথম পর্বের উড়াল পথের রেল সংযোগকে ফার্মগেট পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারলেও ঢাকার উত্তর অঞ্চল ও ঢাকার মধ্য তথা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগ বহুল সংখ্যক মানুষের সরাসরি উপকারে আসত। যাহোক, আমরা আশা করি আগামী বছর উত্তরা থেকে আগারগাঁও হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি ৬ লাইনের পুরোটা চালু হয়ে গেলে বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে মেট্রোরেলের মাধ্যমে দ্রুত পরিবহন করা যাবে, যা নগরের পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।  

মেট্রোরেলের সফলতায় প্রয়োজন বহুমাধ্যমভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ

মেট্রোরেলের সফলতা নির্ভর করবে মেট্রোলাইনকে কেন্দ্র করে বহুমাধ্যমভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। মেট্রোরেল প্রকল্প বেশ কয়েক বছর ধরে বাস্তবায়ন করা হলেও মেট্রো স্টেশনগুলোর আশপাশে পথচারী চলাচল, বাস-প্যারা টানজিট-কমিউনিটিভিত্তিক সার্ভিস, ব্যক্তিগত গাড়ি-সিএনজি-রিকশা প্রভৃতি বাহনগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কীভাবে মেট্রো স্টেশনে আসবে বা স্টেশন হতে বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে সে ব্যাপারে তেমন কোনও ধরনের কার্যকর পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে এই আশঙ্কা অমূলক নয়, মেট্রোরেল চালু হয়ে গেলে মেট্রো স্টেশনগুলোর চারপাশে সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার কারণে স্টেশনের আশপাশে যানজট বেড়ে যেতে পারে।

মানুষজন স্টেশন থেকে বিবিধ গন্তব্যে যেতে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে পারে। যেকোনও উন্নত শহরের মেট্রো পরিকল্পনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মেট্রোরেল তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গেই করা হয়। অথচ আমরা মেট্রোরেল চালু করার পর এই নিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও পরিকল্পনা করা শুরু করেছি।

মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ কয়েকটি স্টেশনের নির্গমনসিঁড়ি ফুটপাতের ওপর করার মাধ্যমে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রোরেলের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়েই নগরের মেয়রসহ সাধারণ নাগরিকেরা পর্যন্ত প্রশ্ন তোলবার অবকাশ পেয়েছেন।

আশার বিষয় হচ্ছে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য রাজধানীর কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি স্টেশন এলাকায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, যেন মেট্রো চালু হলেও ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে কোনও অসুবিধা না হয় যাত্রীদের। মেট্রোরেল চালু হলে স্টেশনে এলাকাগুলোয় প্রচুর চাপ থাকবে যাত্রীদের। সে কারণে স্টেশন এলাকার আশপাশে পরিকল্পনামাফিক মানুষের অবাধ চলাচল ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে সমন্বিত পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার কোনও বিকল্প নেই। মেট্রো স্টেশনকেন্দ্রিক বহুমাধ্যমভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করবার মাধ্যমেই মেট্রো স্টেশনের আশপাশের সম্ভাব্য যানজট এড়ানো সম্ভবপর হবে।

এই পরিকল্পনা যথাসময়ে নিতে পারলে এখন মেট্রোরেলের সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যেত। একইসাথে মেট্রো রেলস্টেশন প্লাজায় গাড়ি, সাইকেল প্রভৃতি পার্কিংয়ের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

টেকসই ‘ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট’ পরিকল্পনা প্রয়োজন

মেট্রোরেল স্টেশনকে কেন্দ্র করে টিওডি তথা ‘ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট’ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে মেট্রোরেলের আশপাশে উচ্চ ঘনত্বের উন্নয়নের জন্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে মেট্রো তৈরির উচ্চ ব্যয়ের কিছু ‘কস্ট রিকভারি’ বা ব্যয় পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ স্টেশনগুলোর কাছাকাছি কয়েকটি টিওডি হাব নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে একটি বিশ্বমানের বিনোদন পার্ক, হোটেল, দৈনন্দিন পণ্যের বাজার এবং শপিং মল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উত্তরায় প্রথম টিওডি হাব নির্মাণ করা হবে।

এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বৈশ্বিক নগর পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী মেট্রোকে টেকসই করতে ও মেট্রোর যাত্রীর পরিমাণ ঠিক রাখতে মেট্রো স্টেশনের আশপাশে যে ধরনের কাঙ্ক্ষিত জনঘনত্ব থাকা প্রয়োজন, আমাদের মিরপুর এলাকায় বর্তমান ‘বিল্ট আপ ফর্ম’ অনুযায়ী সে ধরনের জনঘনত্ব রয়েছে। ফলে টিওডি’র মাধ্যমে এই এলাকাগুলোতে ব্যাপকতর পরিবর্তনের প্রয়াস না চালিয়ে সীমিত পরিসরে রাস্তাঘাটের মানোন্নয়ন ও স্টেশন এলাকায় প্রবেশ-নির্গমন সহজ করা ও বহুমাধ্যমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে মেট্রোরেল টেকসই নগর গড়তে সহায়তা করবে।

রূপান্তরিত মেট্রোরেল এলাকার কার্যকর পরিকল্পনা

মেট্রোরেল যদিও প্রধানত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মেট্রোরেলের কারণে স্টেশনের আশপাশের এলাকার ভূমি ব্যবহারের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে, যার আলামত ইতোমধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এলাকায় চোখে পড়ছে। মেট্রোরেলের কারণে এই এলাকার ভূমির মূল্য বেড়ে গিয়েছে এবং নতুন নতুন আবাসন প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে। বৈশ্বিকভাবেই এই ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মেট্রোরেল হওয়ার পূর্বে যে ধরনের এবং যে আয়শ্রেণির লোকেরা এসব এলাকায় ইতিপূর্বে বসবাস করতো, তারা নতুন ও তুলনামূলক উঁচু আয় শ্রেণির মানুষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, নগর পরিকল্পনার ভাষায় যাকে বলে হয় ‘জেনট্রিফিকেশন’ বা বসবাসকারী জনসংখ্যার শ্রেণি পরিবর্তন। নগর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় সঠিক নীতি কৌশল প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও যথাযথ উন্নয়ন নজরদারির মাধ্যমেই এই জেনিট্রিফিকেশন তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং টেকসই নগর তৈরি ও সার্বিক জনকল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।

এটা অনুমেয় যে মেট্রোরেলের প্রধান ব্যবহারকারী হবেন নগরের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকেরা। ফলে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই শ্রেণির লোকদের মেট্রো স্টেশনের আশপাশে বসবাস নিশ্চিত করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্য সাধনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিওডি পরিকল্পনায় সাশ্রয়ী আবাসন ও সামাজিক আবাসন প্রকল্প নেওয়া হয়। আমরা আশা করবো, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উদ্যোগে যে ‘টিওডি নীতিমালা’ তৈরি করা হচ্ছে, তাতে এই বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।    

বেটারমেন্ট ফি আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ

মেট্রোরেলের মাধ্যমে ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের মাধ্যমে এলাকার জমির দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে জমির মালিকেরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন। আমাদের টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট’ ১৯৫৩ অনুযায়ী এক্ষেত্রে জমির মালিকদের কাছে থেকে ‘বেটারমেন্ট ফি’ বা ‘জমির উন্নয়ন হবার ফি’ নেবার মাধ্যমে মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয়ের খরচ কিছুটা পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় পুনরুদ্ধার করবার জন্য এটা খুবই কার্যকর পদ্ধতি, যা সারা বিশ্বেই অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশে এই নীতির প্রয়োগ করা হলে মেট্রোরেলের পেছনে ভর্তুকির পরিমাণ কমানো যেতে পারে।

করিডোরভিত্তিক উন্নয়নের ব্যাপক প্রভাব

উড়ালপথে ট্রেনযোগে এই সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরা ১২, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর সেক্টর, মিরপুর ১১, মিরপুর-১২ ও পল্লবী এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট ও আবাসন প্রকল্প, বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ নাগরিক জীবনের নানা প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে। নগর পরিকল্পনার ভাষায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কের দুপাশে ‘করিডোরভিত্তিক উন্নয়ন’ ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। এই উন্নয়নের কারণে এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে। আগের পুরাতন বা ছোট ছোট দোকান প্রতিস্থাপিত হচ্ছে বড় বড় ব্র্যান্ডের বিভিন্ন দোকান দ্বারা। এই ব্যাপক পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতি আরও চাঙা হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা ইতিবাচক; কিন্তু এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

ঢাকার উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণে মেট্রোরেলের সঙ্গে সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনা

মেট্রোরেলের মাধ্যমে ঢাকার টেকসই নগরায়ণ ও উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ হবে এমন একটা আশাবাদ আমাদের অনেকেরই আছে। ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমাবে মেট্রোরেল– সরকারও এটা মনে করছে। আমরা স্মরণ করতে পারি, ঢাকার ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ‘উত্তরা স্যাটেলাইট টাউন’। নগর সংস্থাসমূহের সঠিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ও নগরের অযাচিত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের অভাবে উত্তরা এখন ঢাকা নগরের অংশ হয়ে গিয়েছে। মেট্রোরেলকেন্দ্রিক করিডোরভিত্তিক উন্নয়নের কারণে তা এখন পূর্ণতা পেয়েছে।

অনুরূপভাবে ‘পূর্বাচল নিউ টাউন’ ও বৃহত্তর ঢাকা নগরের অংশ প্রায় হয়েই গিয়েছে। প্রকৃত অর্থে ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে গেলে শুধু দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করাই একমাত্র সমাধান নয়, মেট্রোরেলের  ট্রান্সপোর্ট করিডোর ও তার আশপাশের ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও যথাযথ উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এজন্য ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘মেট্রোরেল করিডোর পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পরিবহন পরিকল্পনা ও নগর পরিকল্পনার কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেলের মাধ্যমে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন ও রাজধানীকে বাসযোগ্য করা সম্ভব।

লেখক: অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; নগর পরিকল্পনাবিদ; নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বশেষসর্বাধিক