মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীরা তীব্র আবাসন সংকটে ভুগছে। প্রতিষ্ঠার ৮ বছর পার হলেও এখানে কোনও ছাত্রাবাস গড়ে উঠেনি। এই সুযোগে প্রতিষ্ঠানটির চারপাশে গড়ে উঠেছে জমজমাট মেস ব্যবসা। সেখানে ঠাঁই হচ্ছে না মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের।
২০০৮ সালে শহরের ইটখেলা এলাকায় মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ৩শ’ ছাত্রীসহ মোট ১৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
আরও পড়তে পারেন: বাফুফে নির্বাচন নিয়ে যা হলো এবার
মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ইমরান হোসেন জানান,‘আমার বাড়ি শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে প্রতিদিন এসে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। পলিটেকনিকে কোনও ছাত্রাবাস না থাকায় বাধ্য হয়েই আমরা কয়েকজন সহপাঠী মিলে ইনস্টিটিউটের পাশেই একটি বাসাভাড়া নিয়ে থাকি। এই জন্য প্রতিমাসে গুনতে হয় ১৫০০ টাকা। এর সঙ্গে খাবার, খাতা, বই-পত্র,আনুষঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। সবকিছু মিলিয়ে আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা-মা।’
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আরেক ছাত্র এবাদত হোসেন জানান,প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্রাবাস না থাকায় প্রতিষ্ঠানের চারপাশে মেসের রমরমা ব্যবসা গড়ে উঠেছে। শহরের মাঝখানে যে বাসা ভাড়া পাওয়া যায় চার হাজার টাকায় পলিটেকনিক এলাকায় তা ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ৮ হাজার টাকায়। প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্রাবাস না থাকার কারণে মেস ব্যবসায়ীরা ছাত্র ছাত্রীদের শোষণের সুযোগ পাচ্ছেন।’
অােরও পড়তে পারেন: অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি
পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের ছাত্রী চৈতী রাণী সাহা জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৩শ’ ছাত্রী রয়েছেন। ছাত্রী নিবাস না থাকায় মেসে থাকতে হয়। এতে করে আমাদেরকে মেস ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ মেসের পরিবেশই নারী বান্ধব নয়। মেসে থাকাকালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি।
মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মোতাহার হোসেন স্বীকার করেন ছাত্রাবাস না থাকার কারণে ছাত্র ছাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবারই আবেদন করেছি ছাত্রাবাসের জন্য। তবে ছাত্রদের জন্য না হলেও ছাত্রীদের জন্য একটি নিবাস স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
/এমএসএম /








