ঈদের আগে পাট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ অনিশ্চিত

খুলনা প্রতিনিধি
২৮ জুন ২০১৬, ০২:২৪আপডেট : ২৮ জুন ২০১৬, ০২:৩২

সোনালী ফসল পাট ঈদের আগে খুলনা-যশোর অঞ্চলের সরকারি ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব কারখানায় মজুরি, ঈদ বোনাস ও কর্মচারীদের ২ মাসের বেতন বাবদ ২৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ফলে শ্রমিকদের মাঝে হতাশা আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় শিল্পাঞ্চল খালিশপুরে ঈদের কেনাকাটা না জমায় হতাশ হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) সচিব স্বাক্ষরিত একপত্রে জানানো হয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে উৎসব বোনাস পরিশোধের জন্য অর্থায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ১৪ ও ২০ জুন মজুরি, বেতন, ২০ শতাংশ ডিএ বাবদ ৪৪০ কোটি টাকা অর্থায়নের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পৃথক দু’টি চিঠি দেওয়া হয়। সরকারের কাছ থেকে এ খাতে কোনও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। চিঠিতে মিলের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে উৎসব বোনাস পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: টার্গেট ২০২১: সবার হাতে মোবাইলফোন

জানা যায়,অর্থ সংকটে পাট কিনতে না পারায় উৎপাদন কমে এসেছে এসব কারখানায়। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের নিয়মিত মজুরি ও বেতন পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এ কারণে বিজেএমসির চিঠি পাওয়ার পর খুলনা-যশোর অঞ্চলের সরকারি পাটকলগুলোর কর্মকর্তারা চিন্তায় পড়ে গেছেন। ঈদের আগে মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হলেও উৎসব বোনাস প্রদান সম্ভব হবে না বলে মিল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক মিজনুর রহমান বলেন,এ মিলের প্রায় ৭ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট জুট মিলের মজুরি ও ঈদ বোনাস বাবদ সাড়ে ৮ কোটি টাকাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ৯ পাটকলে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। যা মিলগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করা কঠিন।

শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, ক্রিসেন্টের শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ছেলে-মেয়ের ঈদের কেনাকাটা করা হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, মিলগুলোর দুই সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। ঈদের বোনাস পরিশোধেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিক-কর্মচারীদেও মাঝে হতাশা আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

প্লাটিনাম মিল সিবিএ সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান জানান, গত সপ্তাহে তাদের মজুরি দেওয়া হয়নি। বোনাসের খবর নেই। তবে গত বছর এর আগেই বোনাসের বিষয়টি জানিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। এবার তার কোনও খবর নেই। তারা এখনও আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ না করলেও তাদের বকেয়া মজুরির দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও  বলেন, ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম ও স্টার মিলের শ্রমিক পরিবারে ঈদের খুশি  মলিন হতে চলেছে। 

অারও পড়তে পারেন: মেসি কাঁদলেন, কাঁদালেন
খালিশপুর অঞ্চলের অন্যতম সৌখিন টেইলার্সের মালিক আরমান খান জানান, গত বছর তারা ২০ রমজান থেকে নতুন কোনও পোশাক তৈরির অর্ডার নেননি। কিন্তু এবার চাঁদ রাতের আগ পর্যন্ত তারা নতুন পোশাকের অর্ডার নেবেন। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মিলে সাপ্তাহিক মজুরি না হওয়ায় বেচা বিক্রি কম। তাই মজুরি আর বোনাসের পর বেচা বিক্রি জমবে বলে তিনি মনে করেন। 

রিকা টেইলার্সের টুকু বলেন, এবার তৈরির পোশাকের দিকে ক্রেতাদের নজর যেন কম। তারা রেডিমেট পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। 

রংধনু টেইলার্সের মালিক খলিলুর রহমান জানান, এখনও দর্জির দোকানে পুরো দমে ভীড় জমে ওঠেনি। তবে ২৫ রমজান নাগাদ দর্জির দোকানে ভীড় বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

খান গার্মেন্টেস কাপড়ের দোকানের মালিক শাহাজান খান সাজু বলেন, তার দোকানে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি।  অনেকটা ক্রেতাশূন্য মার্কেটে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। 

ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাধারণ শ্রমিক বাবুল হোসেন জানান, গত শুক্রবার তাদের সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়া হয়নি। আর বোনাস কবে নাগাদ দেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত। মজুরি না পাওয়ায় তিনি পরিবার পরিজনের জন্য ঈদের কেনাকাটা এখনও করতে পারেননি।

 জুয়েলার্স সমিতি খালিশপুর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম অভি জানান, তারা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন শ্রমিকদের মুখের দিকে। কারণ গত বছর শ্রমিকদের মজুরি কবে নাগাদ দিবে তা আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার তা না করার কারণে ব্যবসায়ীরা হতাশ।
নাসের ক্লথ স্টোরের মালিক সামসুজ্জোহা রীয়া বলেন, গতবারের চেয়ে বেচাবিক্রি কম। পোশাকের দাম ২০ থেকে ৩০ ভাগ বেশি হওয়ায় ক্রেতারা এক দোকান থেকে অপর দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু তারা এখনও কেনাকাটা শুরু করেনি।

তাহের বস্ত্রালয়ের বখতিয়ার হোসেন জানান, এবার থ্রি পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে আগামী শুক্রবার নাগাদ ঈদ বাজার জমবে বলে তিনি আশাবাদী। 

জামাল স্টোরের মালিক জামাল হোসেন জানান, ১৮ রমজানের পর তার দোকানে ক্রেতাদের ঢল নামে। অথচ এবার কোনও খবর নেই। শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি আর বোনাস না পাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে ঈদ বাজারে।

 অারও পড়তে পারেন: মুম্বাইয়ে একসঙ্গে বিরাট-আনুশকা!

/এসএনএইচ/এমএসএম/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম