বগুড়ার নন্দীগ্রামে পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড সুপারভাইজার রেজাউল করিমকে (৩৬) হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শনিবার বিকাল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নিহতের ভাই জহুরুল ইসলাম নন্দীগ্রাম থানায় উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ওই কর্মকর্তা নন্দীগ্রামের ভাড়া বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। শুক্রবার সকালে কদমকুড়ি-পোতা সড়কের বেজিগাড়ি এলাকায় রেজাউলের লাশ পাওয়া যায়।
ভিকটিমের চাচা নূরে আলম ও ভাই জহুরুল ইসলাম জানান, ‘বগুড়া সদরের বামনপাড়া গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের ছেলে রেজাউল করিম আদমদীঘি উপজেলায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের পল্লী উন্নয়ন ব্যাংকের ফিল্ড সুপারভাইজার পদে কর্মরত ছিলেন।’
তারা জানান, ‘নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আদমদীঘিতে থাকাকালে রেজাউল করিমের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রেজাউল করিমের মধ্যস্থতায় জিল্লুর রহমান ওই প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে বগুড়ার মহাস্থানের পলাশবাড়ি গ্রামের রুমা নামে এক নারীর কাছে ৬ লাখ টাকা নেয়। জিল্লুর গত দু’বছরেও রুমাকে চাকরি দিতে পারেননি। টাকা ফেরত চাইলে জিল্লুর টালবাহানা করতে থাকেন।’
তারা আরও জানান, ‘জিল্লুর রহমান টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে রেজাউল করিমকে বৃহস্পতিবার বিকালে বগুড়ার শাজাহানপুরের রানীরহাট এলাকায় যেতে বলেন। বিকাল ৫টার দিকে রেজাউল মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাবার পর, তাকে আবার নন্দীগ্রাম যেতে বলা হয়। এরপর রেজাউল বাইক নিয়ে নন্দীগ্রামে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার সকালে নন্দীগ্রামের বেজিগাড়ি এলাকায় রেজাউল করিমের আগুনে পোড়া লাশ পাওয়া যায়।’
ঘাতকরা তার ৮০ সিসি মোটরসাইকেলটি নিয়ে গেছে। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ‘নাটোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানই টাকা ফেরত দেওয়ার নামে রেজাউলকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ জ্বালিয়ে দিয়েছে।’
নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, ‘প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান তার ভাড়া বাড়িতে তালা দিয়ে পরিবার নিয়ে আত্মগোপন করেছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
এপিএইচ/








