ফেসবুকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তির তথ্য ছাড়ানো ও কুৎসা রটানোর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের তিন দিনেও এটিকে মামলা আকারে রেকর্ড করেনি পুলিশ।
জানতে চাইলে মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি আমাদের কাছে সময় চেয়েছিল। তাই মামলা রেকর্ড করা হয়নি।’
তবে কারও অনুরোধে মামলা রেকর্ড করা বা না করা সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বাঙরা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিয়েছে। ওসির ক্ষমতা আছে বিষয়টি তদন্ত করার। আমরা তদন্ত করে দেখছি। তারপরেও যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন ঘটনা তাই আলোচনা করে এটা করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষক সমিতি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে বলেছেন। মামলা রেকর্ড করতে নিষেধ করেছেন তা নয়, তারা বলেছেন, একটু দেখি। আপোস বলে একটা শব্দ আছে।’ তবে পুলিশ আইনগতভাবে এগিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেখানে হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার আমাদের নেই। তবে আমরা চেয়েছিলাম, অভিযুক্ত যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আমাদেরই একজন। তাই তিনি যদি দোষী হন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে তার শাস্তি হোক। এ বিষয় নিয়ে আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছিলাম।’
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনও শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি। বিষয়টি এখন পুলিশ দেখবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সকালে মতিহার থানায় আইসিটি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হক। অভিযুক্ত কাজী জাহিদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। সম্প্রতি তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বিভিন্ন দুর্র্নীতি ও অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান জানান, সম্প্রতি কাজী জাহিদুর রহমান ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কার্যক্রম নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছেন। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিঠি দিয়ে তাকে এ বিষয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়। তিনি কোন সদুত্তর না দিতে পারায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
/টিএন/







