প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, এগুলো এখনও সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের মধ্যে ঘাঁপটি মেরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। তাদেরও প্রতিহত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বিকালে যশোর জিলা স্কুল মাঠে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদবিরোধী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, চট্টগ্রামে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ১০ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। পুলিশের জনবল আর দক্ষতা বৃদ্ধি করেছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ১৯ বার চেষ্টা করা করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যার সুযোগ খুঁজছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।’
সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনেরর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। এই ঐতিহ্য বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে তাদের সঠিক বিচার করা হবে।’ এসময় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী সব নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান সবাইকে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক ও যশোর সদরের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। সময় স্বল্পতার কারণে প্রতিমন্ত্রী শুভকামনা জানিয়েই বক্তব্য শেষ করেন।
বিশেষ অতিথি কাজী নাবিল আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চলছে। মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলের (এমডিজি) সাত সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি ঈর্ষণীয়। দু’তিনটি সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে আমাদের দেশ।’
কাজী নাবিল আহমেদ আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই এসব অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। তার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে দেশ আজ জঙ্গি-সন্ত্রামুক্ত হওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।’
বিশেষ অতিথি কাজী নাবিল অনুষ্ঠানস্থলে প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানের সভাপতির হাতে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার জন্যে একটি পুলিশভ্যানের চাবি তুলে দেন।
জেলা পুলিশ প্রশাসন ও যশোর পৌরসভার আয়োজনে মহাসমাবেশে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি সভাপতিত্ব করেন এস এম মনিরুজ্জামান। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে যশোর শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া, যশোর পৌর এলাকায় বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্সমুক্তকরণ এবং ‘হ্যলো যশোর’ পুলিশ অ্যাপের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে ৮শ ৬৬ জন মাদক ব্যবসায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আরও পড়ুন-
ভারতের সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি হলে জনগণ মানবে না: ফখরুল
সিরাজগঞ্জে জেএমবির প্রচার সম্পাদক গ্রেফতার
কী ঘটেছিল সেদিন কুষ্টিয়ার ওই হোটেলে
/টিআর/








