বগুড়ায় ঐতিহাসিক নওয়াব প্যালেস থেকে ১২৫ বছরের প্রাচীন একটি জয়তুন গাছ বিক্রি করা হয়েছে। প্যালেসের কর্মীরা গাছটি বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে এটি বিক্রির আগে বন বিভাগ বা প্রত্নসম্পদ অধিদফতর থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্যালেসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, ঝড়ে গাছটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।ভবন রক্ষায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেছেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নওয়াব প্যালেসকে ‘সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ’হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা অধিগ্রহণ করা হয়নি। তাই এ ব্যাপারে তাদের কিছু করণীয় নেই।
১৮৯২ সালে ব্রিটিশ সরকার জমিদার সৈয়দ সোবাহান আলী চৌধুরীকে নওয়াব খেতাব দেন। এ উপলক্ষে নওয়াব প্যালেসে খেতাব প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধান অতিথি বাংলার ছোট লাট চার্লস এলিয়ট অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি জয়তুন গাছের চারা রোপন করেছিলেন।
রবিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নওয়াব প্যালেসে গিয়ে দেখা যায়, একদল শ্রমিক জয়তুন গাছটি কাটছে। শহরের ফুলবাড়ি এলাকার রোকন শেখ ২৮ হাজার টাকায় গাছটি কিনে নিয়েছেন।
প্যালেসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম খান লজে গাছটি বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে ঝড়ে জয়তুন গাছটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানাকে অবহিত করেছে। তিনি ভবন রক্ষার নির্দেশ দেন। তাই ভবন বাঁচাতে গাছটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, গাছটি কাটার ব্যাপারে তার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। ভবনের ভেতরের মালামাল দেখার দায়িত্ব তাদের। তাই গাছ কাটার ব্যাপারে তার কিছুই করণীয় নেই।
বন বিভাগের বগুড়া সদরের রেঞ্জ অফিসার তোজাম্মেল হক জানান, কোনও গাছ কাটতে ডিসির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এরপর বনবিভাগ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে ওই গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়ে থাকে। এরপর ডিসির মাধ্যমে গাছ নিলামে তোলা হয়। কিন্তু নওয়াব প্যালেসের জয়তুন গাছ কাটার ব্যাপারে বনবিভাগের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তিন একর ৭৫ শতক বা প্রায় ১০ বিঘা জমিতে নওয়াব প্যালেস ও অন্যান্য স্থাপনা ছিল। ১৮৮৪ সালে প্যালেসটি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্বাধীনতার অনেক পরে মোহাম্মদ আলীর ওয়ারিশরা এক একর ৫৮ শতক বাদে অবশিষ্ট জমি বিক্রি করে দেন। এ প্যালেসের জমি যৌথভাবে কিনেছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, চেম্বারের সহ-সভাপতি ও হাসান গ্রুপের সত্ত্বাধিকারী এটিএম শফিকুল হাসান জুয়েল এবং চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর। তবে ১৯ এপ্রিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নওয়াব প্যালেস ‘সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক’ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। তবে এখন পর্যন্ত এটি অধিগ্রহণ করা হয়নি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে।
রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে নওয়াব প্যালেসের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
/এসটি/







