দেড় বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিতে পারেনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই ৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটির মেয়াদ ছিল এক বছর। কিন্তু আহ্বায়ক কমিটি প্রায় দেড় বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিতে পারেনি।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় জেলা কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, বেকায়দায় রয়েছেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে পুরোনো কমিটিকে ভেঙে দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে শুরু করেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া হিসেবে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নতুন কমিটি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তিকরণের কাজ জোরালোভাবে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন এ দলটি। তারই অংশ হিসেবে পুরোনো কমিটি ভেঙে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরেই কুমিল্লায় ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির তালিকা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে পৌঁছায় দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ। কিছুদিন পর তা সংশোধন করে ১৮১ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটির তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
২০১৫ সাল থেকে জেলা কমিটিতে পদ প্রত্যাশী অনেকেরই বয়স ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। আবার ২০১৬ সালে কেন্দ্রে জেলা কমিটি পাঠানো তালিকায় যাদের নাম ছিল, তাদের মধ্যেও কয়েকজনের ছাত্রজীবন শেষ।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হেসেন রোবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আশা করি, ঈদের আগে অথবা পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পাবো। কেন্দ্রে পাঠানো তালিকা থেকেই যাচাই-বাছাই করে এ কমিটির অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় কমিটি।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শিউলি ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় কমিটির একজন কর্মী, আমার বাড়িও কুমিল্লায়। আমার সঙ্গে তাদের দুজনের (সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক) কোনও যোগাযোগ নেই। এটা আমাদের ব্যর্থতা বা আমার ব্যর্থতা হতে পারে। কিন্তু যাদের আমার সঙ্গেই সমন্বয় নেই, তারা কিভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কমিটির অনুমোদন নেবে। আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে, যখন দেখি অন্য জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পাচ্ছে, কিন্তু আমার জেলা পাচ্ছে না।’
/এনআই/এসটি/
আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে সোজা রাস্তা হলো বাঁকা!







