বাগেরহাটে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। এসব হাটে বিদেশি জাতের গরুর চেয়ে দেশি গরুর চাহিদা একটু বেশি। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাগেরহাটের পশুর হাটগুলোতে গরুর দাম নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভারতীয় গরু আসায় এ বছর গরুর দাম কিছুটা কম।
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাগেরহাটে ৩০ হাজার দেশি গরু ও ২৫ হাজার ছাগল-ভেড়া বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে কোনও প্রকার ক্ষতিকারক উপাদনের ব্যবহার না করেই এসব গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশের জেলাগুলোতেও পাঠানো যাবে।
বাগেরহাট জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলায় ৩৩টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট বসেছে। এসব বাজারে কোরবানি উপলক্ষে প্রতিদিন ট্রাক ও ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আসছে। তবে বিদেশি বা ফার্মের গরুর চেয়ে স্থানীয় দেশীয় জাতের গরুর প্রতি ঝোঁক ক্রেতাদের।
গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় গরু আসায় এ বছর গরুর দাম অনেক কমে গেছে। ফলে অনেকের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
এদিকে, বাগেরহাটের প্রতিটি হাটে প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। গরুর হাটগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যরাও কাজ করছেন। এছাড়াও হাটগুলোতে জাল টাকা চেক করতে বার বার মাইকিং করা হচ্ছে।
বাগেরহাট শহরের পৌর পার্ক সংলগ্ন বালুর মাঠে পৌর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাট বসিয়েছে। এখানে কোরবানির জন্য গরু কিনতে এসেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজিয়ার রহমান পিকলু। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অন্য বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম কম। আমি দেশি জাতের গরু কেনার কথা চিন্তা করছি।’
ভদ্রপাড়া এলাকার ওয়াকিল উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারের সবার পছন্দ দেশি গরু। সাধ্যের মধ্যে একটি ভালো গরু কিনে বাসায় ফিরবো।’
গরু বিক্রেতা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, ‘ভারতীয় গরু আসায় গরুর দাম কিছুটা কম। আমার গরুটির দাম উঠেছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। তবে আরও বেশি টাকায় বিক্রির জন্য আমি গরুটি বিক্রি করিনি। এখন অপেক্ষায় আছি।’
বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান জানান, পৌরবাসীর সুবিধার জন্য পার্কের পাশে বালুর মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এ হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা কেনা-বেচা করছেন।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুজ্জামান খান বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৩টি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে এসব হাটগুলোতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আরাফাত ময়দান মুখরিত হওয়ার দিন আজ
নাফ নদীতে আরও ১৯ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার








