বকেয়া মজুরির দাবিতে খুলনার প্লাটিনাম ও ক্রিসেন্ট জুট মিলে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শ্রমিকরা। বুধবার (৪ অক্টোবর) থেকে প্লাটিনাম জুট মিলে ও বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) থেকে ক্রিসেন্ট জুট মিলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ক্রিসেন্ট জুট মিলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহমেদ হোসেন ও প্লাটিনাম জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. শাহজাহান এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, বিক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই জুট মিলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই মিলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। দুই মিলে উৎপাদিত পণ্য রয়েছে শত কোটি টাকার।
ক্রিসেন্ট জুট মিল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে মিলের মূল ফটকের সামনের বকুলতলায় বিক্ষোভ শুরু করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মিল এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকদের ৬ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই মাসের মাসিক বেতন বকেয়া রয়েছে। শুধু তাই নয়; এই মিলে দীর্ঘ চার মাসের শ্রমিক আমানত পিএফএ-এর ঋণ বন্ধ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের ডিজিএম আহমেদ হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের ৬ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দেড় কোটি টাকা মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়। আর দুই মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ এক কোটি টাকার বেশি বকেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিলে উৎপাদিত পণ্য রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকার। তবে বেশ কয়েক দিনের ছুটির কারণে বকেয়া হয়েছে।’
এর আগে বুধবার বেলা ২টায় বিপুল পরিমাণ মজুরি বকেয়া থাকায় প্লাটিনাম জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে টায়ার জ্বালিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করেন। বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ করা হয়।
প্লাটিনাম জুট মিলের জিএম মো. শাহজাহান বলেন, ‘মজুরি ও বেতন বাবদ প্রায় দশ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে মিলে উৎপাদিত পণ্য রয়েছে ৭৫ কোটি টাকার। সব মিলিয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্তির কারণে এ বিক্ষোভ চলছে।’







