ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি কমে যাওয়ায় হিলির পাইকারি বাজারে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে সাত টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, মূলত ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় এবং অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় দাম বাড়ছে।
গত চারদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে কেজি প্রতি সাত টাকা দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫-১৬ টাকা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে হচ্ছে ২০-২৫ ট্রাক।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে নিয়মিত পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় কম।’
জানা গেছে, পূজার ছুটি শেষে গত ৩ অক্টোবর ২১টি ট্রাকে ৪৩১ টন, ৪ অক্টোবর ১৬টি ট্রাকে ৩০২ টন, ৫ অক্টোবর ২১টি ট্রাকে ৩৯৮ টন, ৭ অক্টোবর ১৩টি ট্রাকে ২৪৩ টন, ৮ অক্টোবর ২৪টি ট্রাকে ৪৬৫ টন, ৯ অক্টোবর ২৫টি ট্রাকে ৪৮২ টন, ১০ অক্টোবর ২৫টি ট্রাকে ৫১৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
ফলে গত সাত দিনে বন্দর দিয়ে ১৪৫টি ট্রাকে মোট দুই হাজার ৮৩৮ টন, গত সেপ্টেম্বরে ৬৩৯টি ট্রাকে মোট ১২ হাজার ৯৫৩ টন ও আগস্টে ৭৪১টি ট্রাকে ১৫ হাজার ৬৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
বুধবার সরেজমিন হিলি স্থলবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৪০-৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চারদিন আগেও এসব পেঁয়াজ ৩৩-৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর দুর্গাপূজার আগে বিক্রি হয়েছিল ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে।
এদিকে বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর পূজার আগে বিক্রি হয় ২৮-৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া দেশি জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে তিন টাকা বেড়ে ৪৮ টাকায় ও খুচরা পর্যায়ে ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. হারুন উর রশীদ ও মো. বাবলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের পাটনা, বিহার, কানপুর, ইন্দোর, রাজস্থান, গুজরাট এলাকা থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হতো। আগে প্রতিদিন ৪০-৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি করা হলেও এখন কম আসছে। কারণ ওই সব প্রদেশে পেঁয়াজের মৌসুম শেষ। বর্তমানে শুধুমাত্র ভারতের নাসিক ও ব্যাঙ্গালোর থেকে পেঁয়াজ আসছে। নাসিক থেকে গত সপ্তাহেও আমরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৭ রুপিতে কিনেছি। কিন্তু এখন সেই পেঁয়াজ ৩০ রুপিতে কিনতে হচ্ছে। যা পরিবহন, ব্যাংকসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৪৪ টাকার ওপরে পড়ছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এছাড়াও ব্যাঙ্গালুরে বন্যায় পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে সেখানেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মূলত ভারতের বাজারে দাম বাড়ার কারণেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।’
তারা আরও বলেন, ‘এছাড়া দুর্গাপূজা ও আশুরায় বন্দরগুলো ৭-১১ দিন বন্ধ ছিল। তাই বাজারে সরবরাহ কমায় দাম বাড়তে পারে।’
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে সাইবার বীমা কবে?
‘বুক থেকে সন্তান কেড়ে নিয়ে আগুনে ছুড়ে মারে মিয়ানমারের সেনারা’
সিভিল এভিয়েশন ভেঙে হচ্ছে দু’টি সংস্থা







