কুমিল্লায় সোনাইছড়ি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ফের হাসি ফুটবে অর্ধ লক্ষাধিক কৃষকের মুখে। বৃহস্পতিবার কুমিল্লা কোতয়ালী থানা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভে (কেটিসিসি) সমবায় অধিদফতরের রেজিস্ট্রেশন করা কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় বলা হয়, কুমিল্লা গোমতী নদীর কটকবাজার পয়েন্টে ২৫ কিউসেক ভাসমান পাম্প স্থাপন করে সোনাইছড়ি খালে পানি সরবারহ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএডিসি সেচ প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ, বিশেষ অতিথি কুমিল্লা বিএডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদরুল আলম ও কুমিল্লা কেটিসিসির চেয়ারম্যান আমিনুল হক।
সভায় বক্তারা বলেন, কুমিল্লা গোমতী নদীর কটকবাজার পয়েন্টে ৪ ভেন্ট স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয় ১৯৬৩ সালে। প্রকল্পের শুরুতে গোমতী নদী থেকে গ্র্যাভিটি ফ্লো এর মাধ্যমে কিছু কিছু জায়গায় বিভিন্ন ক্ষমতার পাম্পের মাধ্যমে পানি লিফটিং করে খালের দুই পাড়ের জমিতে সেচ কাজ চালানো হতো।
শুরুতে সোনাইছড়ি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লাকসাম এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পর্যন্ত ১৩ হাজার হেক্টর জমি বোরো মৌসুমে সেচের আওতায় ছিল। পরে ধীরে ধীরে সোনাইছড়ি খালের তলদেশে পলি মাটি জমে উঁচু হয়ে যাওয়াতে স্লুইচ গেটের মাধ্যমে গোমতী নদী থেকে সোনাইছড়ি খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না।
সভায় উপস্থিত কৃষকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোমতী নদী থেকে সোনাইছড়ি খালে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া গভীর/অগভীর নলকূপ দিয়ে ভূ-গর্ভের পানি ব্যবহারে ফসল ও পরিবেশ নষ্ট হয়। এমনকি ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পাওয়া যায় না।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ রহমান, বিএডিসি কুমিল্লা রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরনবী, কুমিল্লা কেটিসিসির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।







