বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরসহ নাশকতা মামলায় লালমনিরহাটে সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। লালমনিরহাট দ্রুত বিচার আইন আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে দুলু ও অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করেছে বিজ্ঞ আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লালমনিরহাট সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর লালমনিরহাট দ্রুত বিচার আদালতে মোট ৩৩জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর রবিবার সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে সংঘটিত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ লালমনিরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাফেজ উদ্দিন (৫৫), সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ ৩১জনের নাম উল্লেখ করে এবং অপরিচিত ২০/৩০জনকে আসামি করে একই দিন লালমনিরহাট সদর থানায় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪/৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। লালমনিরহাট সদর থানার মামলা নম্বর ৪৯/৫৬০।
মামলার বিবরণ ও আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মারাত্মক অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী জনতা দলবদ্ধ হয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। তারা জনতা মোড় এলাকায় দোকানপাট ভাঙচুর ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের দেওয়ালে টাঙানো থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় চার নেতার ছবি, একটি দেওয়াল ঘড়ি, দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা ১১৫টি প্লাস্টিকের চেয়ার, একটি ২১ ইঞ্চি ওয়াল্টন টেলিভিশন, চারটি কাঠের দরজা ও একটি দলীয় সাইন বোর্ড ভাঙচুর করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কেএম হুমায়ুন রেজাসহ অন্যান্য আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আসামিদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং অঙ্গীকারের কারণে অভিযোগপত্রের প্রধান আসামি সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ও তিন নম্বর আসামি যুবদল নেতা আব্দুল হালিমকে অসুস্থতাজনিত কারণে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন বিজ্ঞ আদালত।
লালমনিরহাট দ্রুত বিচার আইন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বাদশা বলেন, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করে আগামী ১১ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন বিজ্ঞ আদালত।’
এদিকে সাবেক উপমন্ত্রী বিএনপির রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ আসামিরা আদালত চত্বরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় আগত প্রায় চার শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী বিভিন্ন স্লোগান দেন।







