পিরোজপুরের কাউখালীতে যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৯ নভেম্বর) দিনভর উপজেলা শহরে এ ঘটনা ঘটেছে। কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
নেতাকর্মীরা জানান, সকালে শহরের চিরাপাড়া সেতু সংলগ্ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নবগঠিত যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শোডউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন যুবলীগের সাবেক সভাপতি অলোক কর্মকারের কর্মী সমর্থকরা মতিউরদের শোডাউনের ব্যানার পোস্টার টেনে নিয়ে সড়কের ওপর আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী যুবলীগের দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শহরের ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে থামিয়ে দেয়।
পিরোজপুর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্পাদক গাজী জিয়াউল আহসান বলেন, ‘তিনি কাউখালী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না। ’
নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ এর যৌথ স্বাক্ষরে ২১ নভেম্বর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা যুবলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে মো. মতিউর রহমান হালিম তালুকদারকে আহ্বায়ক, মো. ইউনুস খান ও মো. আসাদুজ্জামানকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৮ জনকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে উপজেলার সব ইউনিয়ন শাখার সম্মেলন শেষ করে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রচার হলে কাউখালী যুবলীগের অলোক কর্মকারের অনুসারীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) অলোক কর্মকার ও তার অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন করে মতিউরদের কমিটিকে কাউখালীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
সংবাদ সম্মেলনে অলোক কর্মকার বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শের সঙ্গে যাদের কোনও সম্পর্ক নেই, সেইসব লোক দিয়ে কমিটি গঠন করে যুবলীগকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। এসব লোক কখনও আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেনি।








