রণাঙ্গনের বীরদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনলো খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকার ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। শনিবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর দৌলতপুরে সরকারি মোহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চল।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রণাঙ্গনের গল্প শোনান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) আলহাজ জালাল উদ্দিন (বীর উত্তম), মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা জেলা ইউনিটের সাবেক জেলা কমান্ডার নূর ইসলাম বন্দ, দৌলতপুর থানা কমান্ডার মোশারফ হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফশিউর রহমান নান্নু। শিক্ষার্থীদেরকে একাত্তরে পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও নির্যাতনের বিভিন্ন গল্প শোনান তারা। সরাসরি রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে পেরে শিক্ষার্থীরাও গর্ববোধ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর টি.এম. জাকির হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী। উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার রূহুল আমিন, শিক্ষা কর্মকর্তা রুমানা ইয়াসমিন প্রমুখ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর টি.এম. জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক পড়ে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিখতে পারে না। এটি শিক্ষকদের ব্যর্থতা।’ জাকির হোসেন আরও জানান, বিষয়টি অনুধাবন করে ২০১৫ সাল থেকে তিনি এ কর্মসূচি চালু করেন। যা শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে এখন সারাদেশে চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন হাজার ৯০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি সমাপ্ত হয়েছে। শিশুদের গল্পের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্যই এ আয়োজন। প্রতিটি স্কুল ও মাদ্রাসার ছেলেমেয়েদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গল্পের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। ’
সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও লালন করতে হবে সবাইকে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই তাদের মেধা দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের সারিতে দাঁড় করাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। তাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। তাঁর আহ্বানে সারা দিয়ে এদেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময় এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। স্বাধীনতাকে নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।’ মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সেজন্যই এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের মেধা দিয়ে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।’ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
‘রাষ্ট্রের উদ্যোগই পারে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে’







