সিদ্ধিরগঞ্জে রোকসানা (১০) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে পুলিশ বন্দর এলাকা থেকে রায়হান কবির সোহাগ (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে। সোমবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ (সার্কেল-ক) মো. শরফ্দ্দুীন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া ও পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ মো. শরফুদ্দীন জানান, গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের আরামবাগ এলাকা থেকে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রোকসানা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা আশরাফুল ইসলাম ২৪ জানুয়ারি থানায় একটি জিডি করেন। পরে গত ২৬ জানুয়ারি সোনারগাঁও থানা কাইকারটেক ব্রিজ এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভর্তি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটির হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে রোকসানার বাবা আশরাফুল আলম মর্গে গিয়ে লাশটি সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২৭ জানুয়ারি আশরাফুল আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, মামলাটি তদন্তকালীন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ খুনের সঙ্গে জড়িত রায়হান করিব সোহাগকে সনাক্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোহাগকে জিজ্ঞাবাসাবাদ করলে সে ঘটনাটি স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ পুলিশকে জানান, রোকসানাকে অপহরণ করে বন্দরের ২২টি হোসেন রোডের ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় রোকসানা চিৎকার করতে থাকলে তার হাত-বা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে রোকসানার লাশ বস্তায় ভরে একটি ব্যাটারিচালিত আটোরিকশায় করে সোনারগাঁয়ের কাইারটেক চর এলাকায় নিয়ে ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন পাখি নিহত রোকসানার বড় বোন আরমিয়ার বান্ধবী। সেই সূত্র ধরেই রোকসানাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত সোহাগ। নিহত রোকসানা পাখির স্বামী সোহাগকে দুলাভাই বলে ডাকত। এক সময় সোহাগের কু-নজরে পড়ে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রোকসানা। ঘটনার দিন রোকাসানাকে নিজ বাসা থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় সোহাগ। পরদিন তার পরিবারের কাছে মোবাইলে ফোনে ছয় হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তাকে হত্যা করে লাশ কাইকার টেক ব্রিজের নিচে ফেলে চলে যায়।
নিহত রোকসানার বড় বোন আরমিনা বলেন, ‘আমার আদরের বোনকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের একটাই দাবি তার ফাঁসি চাই। আমরা মৃত্যুর বদলে মৃত্যু দেখতে চাই।’
নিহতের মা কারিনা আক্তার বলেন, ‘আমার আদরের ছোট মেয়েকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমার বুক খালি করেছে। আমি আসামি ফাঁসির চাই। মৃত্যুর বদলে মৃত্যু চাই।’
আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশের গুলিতে এক ‘ডাকাত’ আহত







