পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির দোয়েঞ্জায় মাইন বিষ্ফোরণে নিহত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর বাংলাদেশি সেনাসদস্য জামাল উদ্দিনের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ধুমিহায়াত পুর ঘাইসা পাড়ায় সৈনিক জামালের বাড়িতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাবার মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ জামালের সাড়ে পাঁচ বছরের একমাত্র সন্তান শিমুল। ছেলে হারানো পরিবারটিকে সান্তনা জানাতে আসছেন এলাকার লোকজনসহ স্বজনরা।
বুধবার রাত ১১টায় জামালের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এই খবরে শোকে ভারী হয়ে উঠে পুরো এলাকা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জামাল ছিলেন সবার বড়। গত সোমবার শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। মালিতে সাড়ে ৯ মাস ধরে অবস্থান করছিলেন জামাল। আর ৩ মাস পরই তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত জামালের মা ফেরদৌসী খাতুন ছেলেকে হারিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। আর স্বামীকে হারিয়ে জ্ঞানহীন অবস্থায় বিছানা নিয়েছেন জামালের স্ত্রী শিল্পী খাতুন। গণমাধ্যমের সামনে কোন কথা বলতে পারেননি শিল্পী। তবে জামালের মা ছেলের মুখ দেখতে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মুখে কোনও কথা বলতে না পারলেও কখনও দাদুর কোলে, কখনও দাদীর কোলে বসে যেন বাবাকে খুঁজছে নিহত জামালের ছেলে শিমুল। কখনো বা বিছানায় জ্ঞানহীন অবস্থায় পড়ে থাকা মায়ের পাশে বসে ছল ছল চোখে তাকিয়ে দেখছে পরিবারের আহাজারি আর স্বজনদের কান্না।
জামালের বাবা মেসের আলী জানান, জামাল ২০০৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। এই অবস্থায় ছেলের মরদেহ দ্রুত পরিবারে কাছে পৌঁছানোর দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানান।
ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, এলাকায় জামাল খুব মিশুক প্রকৃতির ছিল। সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নিহত জামালের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।







