গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এটিএস অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের পরিদর্শক ও উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) ২৫ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মৌচাক এলাকার কৌচাকুড়ি-তেলিরচালায় এ ঘটনা ঘটে। শিল্প-পুলিশ গাজীপুর-২ এর অতিরিক্ত সুপার নুরে আলম সিদ্দিকী এ খবর নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা কারখানায় ভাঙচুরের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৮ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা, আন্দোলনরত শ্রমিক ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এটিএস অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের সে দাবি মানছিল না। প্রায় প্রতিমাসেই তারা দেরিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে আসছিল। কয়েক দিন আগে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনও চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবে না। এ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গত ৬ মার্চ থেকে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার (১০ মার্চ) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বৈঠকে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আগামী বুধবার পরিশোধের ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর আজ (রবিবার) সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে ফের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারখানার গেট তালাবদ্ধ করে এর ভেতরে ভাঙচুর শুরু করেন। এসময় শ্রমিকরা কারখানার সিকিউরিটি কক্ষে থাকা কর্মচারীদের মারধরও করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শ্রমিকরা বাধা দেন। এসময় শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পরিদর্শক সহিদ উল্লাহ, এসআই সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল মাহমুদাসহ শিল্প পুলিশের সাত সদস্য আহত হন।
এদিকে, উত্তেজিত কিছু শ্রমিক কারখানা থেকে বেরিয়ে পাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশের লাঠিচার্জ, শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেলে অন্তত ১৮ জন শ্রমিক আহত হন।
শ্রমিকরা আরও জানান, আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শর্টগানের গুলিতে আহত সুমি ও আক্তার বানু এবং লাঠির আঘাতে আহত মাহমুদাকে শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যপারে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক রয়েছেন। প্রতি মাসেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়। তবে গত মাসের পাওনা চলতি মাসে পরিশোধ করতে ৩-৪ দিন বিলম্ব হওয়ায় কিছু শ্রমিক সংগঠনের উসকানিতে তাদের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
শিল্প-পুলিশ গাজীপুর-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘উত্তেজিত শ্রমিকদের হামলায় পুলিশের সাত সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৮ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।







