সাভারের আশুলিয়ায় জমি দখল করতে না পেরে সিদ্দিকুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম আহম্মেদ। এ অভিযোগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। সিদ্দিকুর রহমানের দাবি, এরপর থেকে মামলা তুলে নিতে তাকে ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহম্মেদ হুমকি দিয়ে আসছেন। এ কারণে প্রায় দুই মাস ধরে পরিবার নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জানান, গত ৪ জানুয়ারি দুপুরের দিকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সিদ্দিকুর রহমানকে মারধর করেন ছাত্রলীগ নেতা শামীম ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার পর বেশ কিছু দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর থানায় মামলা দায়ের করতে চান সিদ্দিকুর রহমান। থানা মামলা না নিলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে গত ২৫ মার্চ আদালতের নির্দেশে এ মামলা গ্রহণ করে আশুলিয়া থানা।
বাদী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, ১৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি দিয়ে আসছেন ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহম্মেদ। শামীম আহম্মেদ এখন জামিনে রয়েছেন। তার হুমকিতে বাদী ও তার স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সিদ্দিকুর রহমানের ভাষ্য, আশুলিয়া থানাধীন সেনওয়ালিয়া এলাকায় তার ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। এ জমি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা করছেন ছাত্রলীগ নেতা শামীম। ভয়-ভীতি দেখিয়ে জমির দখল নিতে না পেরে গত ৪ জানুয়ারি তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে ঢাকা হাউজিং সোসাইটি ও নফেল প্রজেক্টের ভিতরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে দুই হাত-পা ও চোখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগ নেতা শামীম ও তার সহযোগীরা। শামীম ও তার সহযোগীদের রড ও হকিস্টিকের আঘাতে সিদ্দিকুর রহমানের দুই পা ভেঙে যায়। এরপর তিনি বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করতেই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় আমি জামিনে রয়েছি।’
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় যদি ওই ছাত্রলীগ নেতা অপরাধী প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, মামলায় সিদ্দিকুর রহমান ছাত্রলীগ নেতা শামীম ছাড়া তার সহযোগী শহিদুল, এম.আর হাবিবুর রহমান (রবিন), ইমরান, রাসেল, সাগর, ডিপজল, লোকমানসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করেছেন।
সিদ্দিকুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ার ব্যাপারটা জানেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’







