খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন প্রায় সমান সংখ্যক নেতাকর্মী।
জানা যায়, কেসিসি নির্বাচনে ৪১টি কাউন্সিলর পদের বিপরীতে আওয়ামী লীগ থেকে ৪১ জন ও বিএনপি থেকে ৩৭ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের আরও ৪০ জন নেতা ও বিএনপির আরও ৩২ জন নেতা বিদ্রোহ করেছেন। বিএনপির ৩২ বিদ্রোহীর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন ৬ জন রয়েছেন। তারা জোট ও দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতা দাখিল করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মনোনয়নপত্র দাখিলের মাধ্যমে কেন্দ্রের ও স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তের প্রতি তৃণমূলে থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা যায়, কেসিসি নির্বাচনে ওয়ার্ড নম্বর ১, ৩, ৪, ১২ ও ৩১-এ জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে। বিএনপি এসব ওয়ার্ডে শরিক জামায়াতকে কোনোটিতেই ছাড় দেয়নি। নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন। ১৩, ১৪, ১৫, ১৭, ২১, ২৮ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র একক প্রার্থী রয়েছে। আবার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অসুস্থতার কারণে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে ওই ওয়ার্ডে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে।
প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৩ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মুনিরুজ্জামান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাস, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কেএম হুমায়ুর কবির ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আমানউল্লাহ আমান মনোনয়ন পাননি। এমন অবস্থার মধ্যে জেলা বিএনপি থেকে দুটি ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপি ঘোষিত প্রার্থীর পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঘোষণার পর তা বাতিল করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
এছাড়া সংরক্ষিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হালিমা ইসলামকে পরিবর্তন করে কনিকা সাহাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১০ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে যুবলীগ নেতা কাজী তালাত হোসেন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাজুল হাসান রাজু, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে জিয়াউল ইসলাম মনোনয়ন চেয়ে না পাননি। পরে তারাও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এসব ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচিত সকল কাউন্সিলরকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর কোনও সিদ্ধান্তেই সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করা যায়নি।’
মহানগর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, প্রথম ঘোষণায় মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পাল্টানো হলে আমি বাদ পড়ি। এতে খুলনায় আমাদের সংগঠনের ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভোটার ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান এমপি বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







