খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থীদের কাছে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। রবিবার (৬ মে) মহানগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। সংলাপটির আয়োজন করে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল।
সংলাপে বাছাইকৃত ৬টি বিষয়ের মধ্যে অন্যতম ছিল মাদক নিয়ন্ত্রণ। এসময় মাদক ইস্যুতে উপস্থিত জনতা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসময় মেয়র পদপ্রার্থীদের কাছে উপস্থিত নাগরিকদের প্রশ্ন ছিল- মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা ক্ষমতাবান কিনা?
এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতা নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা।’ তিনি জানান, নির্বাচিত হলে মাদক সচেতনতায় কমিটি গঠন করবেন তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন কোনও ঘটনা না।
এ ব্যাপারে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘প্রথমেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ও প্রশাসনের তালিকায় থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত। মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে কোনও ধরনের বাধা দেওয়া যাবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টির আন্দোলন ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। তাতে পরিবারকেন্দ্রিক সচেতনতা পাড়া-মহল্লায় অন্যরকম ঢেউ সৃষ্টি করবে। যে ক্ষমতার কাছে অন্য কোনও ক্ষমতাই টিকে থাকবে না।’
অনুষ্ঠানে খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা খুলনা নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম ও কার্যকরী সেবাদান ব্যবস্থা নিয়ে মেয়র পদপ্রার্থীদের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান। উপস্থিত নাগরিকরা ৬টি গ্রুপ ওয়ার্ক শেষে মেয়রদের কাছে ৬টি বিষয়ের ওপর কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। মাদক ছাড়া অন্য ৫টি বিষয় হচ্ছে অবকাঠামো ও জলাবদ্ধতা, বিনোদন, সনদ ও অন্যান্য সার্টিফিকেট, যানজট এবং স্বাস্থ্য।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি কেটি ক্রোক। আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মেয়র পদপ্রার্থীদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠানটি দেশজুড়ে অনুকরণীয় মডেল হয়ে থাকবে।’
সংলাপ অনুষ্ঠানটি ইউএসআইডি ও ইউকেএইড-এর যৌথ অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের বাস্তবায়নে ‘স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংলাপে তালুকদার আব্দুল খালেক জনান, বয়স্ক মহিলা ও শিশুদের জন্য আলাদা পার্কের ব্যবস্থা করতে চান তিনি। ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদানসহ এগুলোর চলাচল সহনীয় করা, সনদপত্র প্রদান বিষয়কে সহজ করা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করেই নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়নে আগ্রহী তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কেডিএ সৃষ্টি হওয়ার পরই সিটির উন্নয়ন ব্যবস্থা খারাপ হয়েছে। সংস্থাটি যত্রতত্র নকশা অনুমোদন দেওয়ার ফলে নগরায়ন ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াসা অল্পদিনের সৃষ্টি হলেও কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সকলের অংশগ্রহণ ছাড়া শহরের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব না। উন্নত সিটি করপোরেশন গড়তে হলে নাগরিকদের কর যেমন দরকার, তেমনি সরকারের কাছ থেকে অর্থ আনাও প্রয়োজন। তাছাড়া বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।’
এসময় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘শহরের উন্নয়নে ও যানজট নিরসনে একমুখী সড়ক তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে যানবাহন চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন হয়। বিভিন্ন সনদ ও সার্টিফেকট প্রাপ্তিকে সহজ করতে হবে। এ নগরের বস্তি এলাকায় ২০-২২ শতাংশ মানুষের বসবাস। যাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গহণ করা প্রয়োজন, তাদের চিকিৎসায় প্রয়োজন ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবারি ব্যবস্থা করা হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। লোনা পানি শহরের সবুজ বেষ্টনী নষ্ট করছে, যা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব করার জন্য নাগরিক কর্তৃক প্রদত্ত করের অর্থই যথেষ্ট। এসব কাজ করার জন্য সরকারের অর্থ প্রত্যাশায় সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।’







