রাজধানীর উপকণ্ঠে আয়তন বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরে আজ মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ হবে। এ সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৮টিকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল। তিনি আরও জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সব কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ভোটের দিন বিশেষ নজর রাখবে প্রশাসন।
সোমবার দিনগত রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ভোটের দিন বিশেষ নজর রাখবে প্রশাসন।
এর আগে শনিবার (৫ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুর সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতমিনিময় সভায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। আর ৮৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে জেলা বিএনপির অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করায় তা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এতে দলটির ভোটার ও পোলিং এজেন্টদের ঝুঁকি বেড়েছে।
এ ব্যাপারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচন এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, পুলিশ আমাদের ধানের শীষ পেলিং এজেন্টদের নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে, যাতে তারা স্ব স্ব কেন্দ্রে উপস্থিত না হয়। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।’
বিএনপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল। তিনি গাজীপুরে কোনও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই দাবি করে বলেছেন, ‘আমরা ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ৮৮টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন যে ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে, তার চেয়েও বেশি প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচন চলাকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা হওয়ার আশঙ্কা নেই।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ২৫৬ জন এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৮৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এটা দ্বিতীয় নির্বাচন।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে ২৪ জন করে ৮ হাজার ৮৮ জন এবং ৮৮টি সাধারণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে ২২ জন করে এক হাজার ৯৩৬ জনসহ মোট ১০ হাজার ২৪ জন আনসার ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে ১০ জনের একটি টিম এবং ১০ জনের একটি রিজার্ভ টিম মোতায়েন থাকবে। ৫৮০ জন র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে মোট ২৯ প্লাটুন এবং প্রতি প্লাটুনে ২০ জন করে ৫৮০ জন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনের আগে ও পরে ৪ দিনে ৫৭ জন (প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। আরও ১০জন অতিরিক্ত হিসেবে মোট ৬৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গড়ে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে মোট ১৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ -১৭ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।







