নেত্রকোনার চাঞ্চল্যকর কৃষকলীগ নেতা একেএম মাসুদ ফারুক (৫২) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মো. সাফায়েত (২৮) ও কাউসারকে (২৭) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় নেত্রকোনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তাদের হাজির করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম জানান, নেত্রকোনা পৌরসভার বালুয়াখালী এলাকার কৃষকলীগ নেতা একেএম মাসুদ ফারুকের সঙ্গে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ কর্মী শাহজাহান তালুকদার সবুজের জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সবুজের ছেলে রাতুল হাসান নয়ন ও রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজুর বাজারে মাসুদের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই একেএম রাসেল বাদী হয়ে শাহজাহান তালুকদার সবুজ ও তার পুত্র রাতুল হাসান নয়নসহ ২০ জনকে আসামি করে ১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই আসামিরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে শাহজাহান তালুকদার সবুজ, তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার, স্বপ্না, রিয়াদকে আটক করে। তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মামলার অন্যতম আসামি ওমর ফারুকের ছেলে মো.সাফায়েতকে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে এবং মৃত সম্রাট তালুকদারের পুত্র কাউসার তালুকদারকে যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকা থেকে ৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার বর্ণনা দেন। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক লিপ্টনের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আটটি রামদা উদ্ধার এবং পালিয়ে যাওয়ায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্ধ করা হয়। অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ সময় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফকরুজ্জামান জুয়েল, নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন খান, নেত্রকোনা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান প্রমুখ।
/এমএএ/







