সরকার ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গাজীপুরে বিভিন্নস্থানে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শ্রমিকদের দাবি, পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ারসেল ছুড়েছে। তবে শ্রমিকরা পুলিশের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ঢাকা বাইপাস সড়কের ভোগড়া পেয়ারাবাগান এলাকার ভি অ্যান্ড আর ফ্যাশনস পোশাক কারখানার অপারেটর ও শ্রমিকরা দুপুরে পর কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। গত কয়েকদিন ধরে তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া না দেওয়ায় শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বাইরে বেরিয়ে ভোগড়া পেয়ারাবাগান এলাকায় ঢাকা বাইপাস সড়ক অবরোধ করে। এসময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা একটি মোটর সাইকেলে অগ্নি সংযোগ করে। এসময় তাদের সঙ্গে যোগ দেয় পার্শ্ববর্তী চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার টিএন ফ্যাশন, ব্রাদার ফ্যাশন, অ্যাপারেলস গার্মেন্টসসহ ভোগড়া, বাসন সড়ক, মালেকের বাড়ি বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তারা বিভিন্ন কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দরজা জানালার কাঁচ ভাঙে। মহাসড়ক অবরোধের কারণে যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ মালেকের বাড়ি কলম্বিয়া এলাকায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বললে তারা না মেনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুলিশের তিন সদস্যসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে টিয়ার সেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তার হোসেন জানান, বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজিত শ্রমিকরা বাসন থানার ওসি (অপারেশন) নন্দলালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর আনিছুর রহমান ও আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারসেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এল বিকাল ৩টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।
এদিকে বিকালে মহানগরের কোনাবাড়ি, জরুন ও কাশিমপুর এলাকার আলিফ গার্মেন্টস, স্বাধীন ও স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশসহ কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।








