ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকা ও এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মিথ্যা অঙ্গীকারনামা লিখে নেওয়ার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল চত্বরে এ বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১২টা) দুই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা জানান, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পর রবিবার (২৭ জানুয়ারি) মেধা তালিকায় থাকা দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ছিলো। এফ ইউনিটের হানিফ নামের এক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে আসলে সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষক আতিউর রহমান ও তরিকুল ইসলাম পরীক্ষায় খাতায় দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরে সামান্য অমিল পাওয়ার অজুহাতে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আটকে রাখেন। সেখান থেকে বের হয়ে আসার পর ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আটকে রেখে শিক্ষকরা তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। ওই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে– মর্মে তার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে শিক্ষকরা অঙ্গীকারনামা লিখে নিয়েছেন। ওই শিক্ষার্থী বারবার আকুতি জানান, তিনি নিজেই পরীক্ষা দিয়েছেন। তারপরও তার কাছ থেকে জোর করে লিখে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা অঙ্গীকারনামার পেছনের পাতায় পরে আরও একটি অঙ্গীকারনামায় লিখে নেন, প্রথমবার ওই শিক্ষার্থী ভুল করে ওই সব কথা বলেছিলেন।
ওই শিক্ষার্থী সেখান থেকে বের হয়ে বিষয়টি সবাইকে জানালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় বাণিজ্য ও নিরীহ শিক্ষার্থীকে জোর করে নির্যাতন চালিয়ে মিথ্যা অঙ্গীকারনামা লিখে নিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে দুই সহকারী প্রক্টরের বিচারের দাবিতে তাদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এ ব্যাপারে অবরুদ্ধ থাকা সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষক তরিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থী প্রথমে নিজেই দোষ স্বীকার করেছে। পরে আবার অস্বীকার করে দু ধরনের অঙ্গীকারনামা প্রদান করেছে। আমরা তাকে আটকে রাখিনি বা অঙ্গীকার নিতে বাধ্য করিনি। আমরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে কারা সঠিক। শিক্ষার্থীরা আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে কথাটি সঠিক নয়। তবে তারা বিক্ষোভ করছে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, ‘শিক্ষকরা ভর্তি বাণিজ্যে জড়িত এটা প্রমাণিত। তারা একজন নিরীহ শিক্ষার্থীকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে দু ধরনের অঙ্গীকারনামা লিখে নিয়েছেন, যা অনৈতিক। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন।’ তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহিবুল ইসলাম দুই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার কথা স্বীকার করে জানান, তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চললেও প্রক্টর বা সিনিয়র শিক্ষকরা কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি বলে জানা গেছে।







