‘অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। মিয়ানমারে আমার ওপর নির্যাতনের কথা শুনে তিনি হতবাক হয়েছেন, আবেগাপ্লুত হয়েছেন।’ হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে কথা বলার পর বাংলা ট্রিবিউনকে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং এক্সেটেনশন ৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী রমিজা খাতুন।
মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ৭ ঘণ্টার বেশি সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করেন জোলি। সকাল ১০টায় কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি। পরে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর ক্যাম্প ত্যাগ করেন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে। এ সময় রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।
ক্যাম্পে জোলির সঙ্গে কথা বলেছেন রোহিঙ্গা নারী মরিয়ম বেগম। তার স্বামী শফিউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বাসায় অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গিয়েছেন। আমার বাসার চৌকাঠে বসে আমার স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং আমাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।’
কালো রঙের ওড়না দিয়ে মাথা ও শরীর ঢেকে হেঁটে হেঁটে রোহিঙ্গা ক্যাম্প দেখেন হলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই তিনি এই পোশাকে এসেছিলেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে পৌঁছে ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন এবং রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে করমর্দন করেন। এছাড়াও উপস্থিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে উখিয়ার কুতুপালং ৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। একই ক্যাম্পে তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে দুপুরে কুতুপালং ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫নং ক্যাম্পে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গারা অন্যতম। তাই তাদের নাগরিকত্বসহ সব অধিকার দিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ‘হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি দুইদিনের জন্য ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসেন। গতকাল সোমবার টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে আজ দ্বিতীয় দিনে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করছেন। সারা দিন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। আগামীকাল বুধবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন ।’
এর আগে গতকাল সোমবার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল ২১নং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন জোলি। সেখানে নির্যাতিত ও ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের কাহিনী শোনেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত হিসেবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফরে তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন-
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির একদিন (ভিডিও)
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি: অ্যাঞ্জেলিনা জোলি







