‘আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে, সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নেবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।' নুসরাত জাহান রাফির হাতে লেখা এরকম একটি চিঠির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঁচদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফেনীর সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি বুধবার রাতে মারা গেছে। তার গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে ভিকটিমের গ্রামের বাড়ি উত্তর চরচান্দিয়ায় তল্লাশি চালানোর সময় এই চিঠি খুঁজে পায় পুলিশ। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি তদন্ত কামাল হোসেন বাংলাট্রিবিউনকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘বুধবার নুসরাতের বাড়িতে আলামত সংগ্রহের সময় চিঠিটি সন্ধান মিলেছে।’
উদ্ধার হওয়া চিঠির পাতা দুটির ফটো কপি বাংলাটিব্রিউনের এই প্রতিনিধিকেও দিয়েছে পুলিশ। নুসরাত দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে খাতায় চিঠি লিখেছে। তবে তিনটি পাতার মধ্যে মাঝের পাতাটি পাওয়া যায়নি।
চিঠিতে লেখা রয়েছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা পরীক্ষার আগে নুসরাতকে প্রশ্ন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়।
গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা করে নুসরাত তার দুই বান্ধবী তামান্না ও সাথীকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লেখে। ওই চিঠিতে সে আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করে। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদ দৌলা গ্রেফতার হলে তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে। এছাড়া তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও তার মর্মাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।






