লালমনিরহাটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১২১তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই কর্মচারীকে বরখাস্ত, এক কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি এবং দুটি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে এই গণশুনানি। মোট ৩৮টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচজন অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকায় সেগুলোর শুনানি হয়নি।
এ সময় ৪৪৯ জন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা ঘুষের ১৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া এবং একই অফিসের কর্মচারী আমজাদ হোসেনকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রেলওয়ের ভূসম্পদ বিভাগের কর্মচারী মাসুম মিয়াকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। রেলওয়ের কর্মচারীর ঘুষ ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সাড়ে ৯৫ লাখ টাকার ওষুধ খোয়া যাওয়ার ঘটনার প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় যায়। এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে রংপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) শেখ মেজবাহ উদ্দিনকে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া লালমনিরহাট সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার রাশেদুল ইসলামকে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি অফিসের অভিযোগগুলোর শুনানি শেষে তাদেরকে সতর্ক করে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শুনানির পর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে কিনা তা মনিটরিং করা হবে। গণশুনানির মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি, সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করে মানুষকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার। দেশে রাতারাতি হয়তো দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। তবে দুর্নীতি বন্ধে আমরা অনেক কিছু করছি, এখন কিছুটা সময় প্রয়োজন।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফরের সঞ্চালনায় গণশুনানি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এএফএম আমিনুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– দুদক পরিচালক নাসিম আনোয়ার, দুদক রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুজ্জামান খান, সহকারী পুলিশ সুপার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও লালমনিরহাট জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীরপ্রতীক প্রমুখ।







