নাটোরের সিংড়া উপজেলায় নেশাগ্রস্ত চাচার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির পর কলেজপড়ুয়া ভাতিজিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাচা শাহাদত হোসেনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (৪ আগস্ট) বিকালে এই ঘটনা ঘটে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাহাদত উপজেলার ইতালি ইউনিয়নের দেওগাছা গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। নিহত ভাতিজি রেশমি খাতুন (১৯) স্থানীয় বামিহাল এলাকার রহমত- ইকবাল অনার্স কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি দেওগাছা গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে।
ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রেশমির দাদার বাড়ি পাকুরিয়া গ্রামে হলেও তার বাবা আবদুর রাজ্জাক ও চাচা শাহাদত দেওগ্রামে বসবাস করেন। রবিবার সকালে উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামে রেশমির দাদা মারা যায়। খবর পেয়ে অন্য সদস্যরা রেশমিকে বাড়িতে ও তার ছোট বোনকে বিদ্যালয়ে রেখে সেখানে যায়। তবে নেশাগ্রস্ত শাহাদত না গিয়ে বাড়িতে থেকে যায়। দুপুরের দিকে সে ঘরে ঢুকে যৌন হয়রানি করলে রেশমি প্রতিবাদ করে এবং বিষয়টি বলে দেওয়ার কথা জানায়। এ সময় উত্তেজিত হয়ে শাহাদত তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ দোতলায় ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। বিকালে স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে রেশমির ছোট বোন দোতলায় উঠে রেশমির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। এ সময় এলাকাবাসী এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শাহাদত ঘটনা স্বীকার করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রেশমির মরদেহ উদ্ধার ও শাহাদতকে আটক করে।
ওসি মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, রেশমির শরীরে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি। রেশমির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি।








