মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৫ আগস্ট) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ অভিযোগ গঠন করেন। এই ঘটনায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বাদী পক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, ‘২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআই ৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ডকেটসহ ২৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ডাক্তার ও পুলিশসহ মোট ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনার আগে যৌন হয়রানির মামলায় ১৯ জুন একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে দুদিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নুসরাতকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে। হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে।
এই ঘটনার পর থেকে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নানাভাবে নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। তারা মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে ৬ এপ্রিল নুসরাতকে কৌশলে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।







