টেকনাফে পঙ্গু ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৮:০৭আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৮:২৯

আবুল বশর। ঈদের আগের রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে তাকে।

পূর্ব শত্রুতা থাকায় আবুল বশর (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে বছর দেড়েক আগে পিটিয়ে এক পা ভেঙে পঙ্গু করে দিয়েছিল প্রতিপক্ষ। এরপর তার ছেলেকেও পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয় এবং শ্যালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাদী হওয়ার কারণে এবার আবুল বশর (৪৯) নামের ওই ব্যক্তিকেই ঈদের আগের রাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার ভোররাত আড়াইটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীর পাড়া এলাকায়।

নিহতের স্ত্রী শামসুন নাহারের অভিযোগ চিহ্নিত প্রতিপক্ষই ভাড়াটে লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

নিহত বশর এলাকার মৃত ফয়েজুর রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আবুল বশরের স্ত্রী শামসুন নাহারের বর্ণনা ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০-২৫ জনের একটি দল ঘরের দরজা ভেঙে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। আবুল বশরকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হলে উপপরিদর্শক স্বপনের চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। তবে তারা আশেপাশে তল্লাশি চালিয়ে বশরকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ভোরে পাশের চাষাবাদের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের পর ঈদের দিন সন্ধ্যায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় একই এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে আব্দুল হামিদকে প্রধান আসামি করে এজাহারে উল্লিখিত ১৬ জন ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনের নামে মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

তবে ঘটনার ৪দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক স্বপন চন্দ্র দাশ জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

শামসুন নাহার আরও জানান, স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা দিলে তাকেও মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এসময় তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। জমি-জমার বিরোধ নিয়ে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে বলে জানান তিনি। বছর দেড়েক আগে একই প্রতিপক্ষের হামলায় এক পা হারান বশর। এর আগে বশরের শ্যালক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দেলোয়ারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তারা। বশরের ছেলে মিজানকেও কুপিয়ে প্রায় পঙ্গু করে ফেলে। এসব ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বশর। সেসব মামলার বাদী থাকায় এবার তাকেও হত্যা করে শত্রুরা।

 

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে