মাগুরায় ইসবগুলের পরীক্ষামূলক আবাদ সফল, আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

মাজহারুল হক লিপু, মাগুরা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:২৪আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৩

মাগুরায় ইসবগুলের পরীক্ষামূলক আবাদ সফল ইসবগুল উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র। গতবছর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সাফল্যের পর এবছর ইসবগুল চাষে উৎসাহ দেখাচ্ছেন কৃষকেরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাপকভাবে ইসবগুল চাষ করতে পারলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রফতানি করে বিদেশি মুদ্রাও আসবে।

মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, অতি শীত বা তীব্র গরমে ইসবগুল উৎপাদন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ইসবগুল উৎপাদনে দারুণ সহায়ক। সাধারণত নভেম্বর মাসে এ শষ্যের বীজ বপন করা হয়। মার্চ মাসে ফসল ঘরে তোলা হয়। এর উৎপাদন কাল মাত্র ১১০ দিন। এই সময়টায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম থাকায় ফসল নষ্টের ঝুঁকিও কম। প্রতি হেক্টর জমিতে ১০০০ থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত ইসবগুল উৎপাদিত হয়।

ইউএসএইডে কর্মরত কৃষি গবেষক খায়রুল আবরার বলেন, ‘ইসবগুলের ভূষির বাজারে খুব চাহিদা। একারণেই এর উৎপাদন কৃষকের জন্য খুবই লাভজনক। এক হেক্টর জমিতে ইসবগুল চাষ করে একজন কৃষক কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। ধান, পাট বা অন্য যেকোনও রবি ফসল এবং ইসবগুলের ভূষির উৎপাদন মেয়াদ একই। অথচ তা থেকে এত মুনাফা অর্জন সম্ভব নয়। অন্যদিকে রবি ফসলে ভাইরাস বা কীট-পতঙ্গের আক্রমণের যে ঝুঁকি থাকে এখানে তা একেবারেই কম।’

মাগুরার দরিমাগুরা এলাকার কৃষক তৈয়েবুর রহমান বলেন, ‘আমি মসলা গবেষণা কেন্দ্রে ইসবগুলের চাষ দেখে উৎসাহিত হয়েছি। আশা করছি এবছর আমার আড়াই বিঘা জমিতে ইসবগুলের চাষ করবো।’

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘ইসবগুলের ভূষি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। কৌষ্ঠকাঠিন্যসহ পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ইসবগুলের ভূষি ব্যবহার করা হয়। যেহেতু এটি আয়ুর্বেদিক উপাদান, তাই এর কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।’

কৃষি ও প্রকৃতি বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা পল্লী-প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘মাগুরায় ইসবগুলের চাষ সফল হয়েছে এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। সামনে এর বীজ বপন কাল। আমরা ব্যাপকভাবে এর চাষ করতে পারলে শুধু আমদানি ব্যয় কমানো নয়, বরং রফতানিও সম্ভব। তবে সবার আগে প্রয়োজন কৃষককে এ শষ্য চাষে উদ্বুদ্ধ করা। এজন্য সংশিষ্ট সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’

মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই ইসবগুল চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশে ইসবগুলের ভূষির চাহিদা দুই থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন। আমরা ব্যাপকভাবে এর উৎপাদন করতে পারলে কমপক্ষে ১৫০০ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হবে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কৃষক আমাদের কাছে ইসবগুল চাষের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

 

/এফএস/
সম্পর্কিত
এবার স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ফেসবুকে ভিডিও, গ্রেফতার ৫
কারাগার থেকে বের হওয়া মাত্রই আবার গ্রেফতার আ.লীগ নেত্রী
যেসব জেলায় চলছে খাল খনন, অগ্রগতি ও ব্যয় কত
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী