দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম বিনাইল। প্রায় দেড় হাজার লোকের বাস এই গ্রামে। করোনার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো দিনাজপুর জেলাতেও ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। এতে ওই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ হয়ে পড়েছেন কর্মহীন, বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসাসেবা থেকে। এ অবস্থায় ওই গ্রামের কর্মহীন ও দরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য, চিকিৎসা সেবা ও করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে এসেছে এলাকার যুবকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘মানবতার ঝুড়ি’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সরেজমিনে বিনাইল গ্রামে দেখা যায়, গ্রামটির প্রবেশপথেই রয়েছে মানবতার ঝুড়ির বিনামূল্যের খাদ্য পণ্যের পসরা। সেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা কর্মহীন ব্যক্তিসহ বয়স্ক, এতিম ও প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করছেন। সেই সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা জানায়, গত এক সপ্তাহ থেকে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও করছেন তারা। গ্রামের বিনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে চলছে মনবতার ঝুড়ির আয়োজনে বিনামূল্যে গ্রামবাসীদের চিকিৎসা সেবা। বিতরণ করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। বিরামপুরের ইমার উদ্দিন কমিউনিটি হসপিটালের সহযোগিতায় দেওয়া হচ্ছে এই চিকিৎসাসেবা।
চিকিৎসা নিতে আসা সাইফুদ্দিন মন্ডল (৭৮) বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শারীরিক অসুস্থতা ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি বিরামপুরে যেতে পারছিলেন না। গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে তার খুব উপকার হয়েছে।
গ্রামের বিধবা নুরজাহান বেওয়া (৭২) বলেন, ‘আট-দশ দিনোত থেকে প্যাটের ব্যথাত মরছিনো। হাতোত কোনও টাকা পয়সা নাই। ডাক্তারের কাছে যাবা পারুছুলুনা। গাঁওত বিনা পয়সায় ডাক্তার দেখে খুব উপকার হলো। ওরা বিনা পয়সায় ওষুধও দিছে। এতে করে হামার খুব উপকার হইছে।’
গ্রামের শিক্ষক হায়দার আলী জানান, দেশের সংকটে প্রত্যন্ত গ্রামে যুবকদের এ উদ্যোগে সাধারণ গ্রামবাসী খাদ্য, চিকিৎসার পাশাপাশি করোনা মহামারি প্রতিরোধে সচেতন হতে পারছেন।
চিকিৎসক ডা. মুহাতারিমা সিফাত জানান, মানবতার ঝুড়ির আহ্বানে সমাজের প্রতি নিজ দায়িত্ববোধ থেকে তিনি বিনাইল গ্রামে চিকিৎসাসেবা দিতে এসেছেন। আর্থিক ও যাতায়াত সমস্যার কারণে দূরবর্তী এ গ্রামের অনেকেই বিশেষ করে নারীরা শহরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না। তাদের কথা ভেবেই তিনি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে গ্রামের সাধারণ মানুষদের সচেতন করতেও কাজ করছেন তিনি। এখানে উচ্চ রক্তচাপ, গাইনি, ডায়াবেটিস রোগীদের সরাসরি এবং করোনার উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
মানবতার ঝুড়ির প্রতিষ্ঠাতা এএসএম তারেক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেশের সংকট মুহূর্তে মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে এ সংগঠন কাজ করছে। যতদিন দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন তাদের বিনামূল্যে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে। দুস্থ ব্যক্তি ছাড়াও যেসব মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ে প্রকাশ্যে সহযোগিতা নিতে পারছেন না তাদের গোপনে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।








