করোনা পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ নেই মাগুরার ১৪৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ১৩০০ শিক্ষকের জীবনে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্কুলগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা পার করছেন কঠিন সময়। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক স্কুল।
মাগুরা কিন্ডার গার্টেন স্কুল অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৪৫টি কেজি স্কুলে ১৩০০ শিক্ষক কর্মরত আছেন। করোনা পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১৩৪টি স্কুলের কোনও কোনটিতে শিক্ষকদের আংশিক বেতন দিলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মাগুরা শহরের ভায়না এলাকায় অবস্থিত নতুন কুড়ি বিদ্যা নিকেতনের শিক্ষক তাজনুর বেগম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গত ৫ মাস বেতন পাচ্ছি না। এই অবস্থায় সংসার চালানোই কঠিন। ঈদ নিয়ে তো ভাবছিই না।
মাগুরা পারনান্দুয়ালীতে অবস্থিত বসুন্ধরা কেজি স্কুলের শিক্ষক তাহেরা বেগম বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বেতন দিচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা কী করে বেতন পাবো, কী করে ঈদ করবো?
মাগুরা শহরের সূর্যমূখী শিশু বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপ্না খান বলেন, স্কুল বন্ধ তাই ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। আমার রোজগারে সংসার চলে। আমাদের স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু টাকার ব্যবস্থা করেছেন, তবে তা দিয়ে নিজে কোনোভাবে চললেও ঈদের ভাবনা ভাবছি না।
মাগুরা শহরের অক্সফোর্ড কিন্ডার গার্টেন স্কুলের অধ্যক্ষ ও জেলা কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি আমার নিজের স্কুলে ১২ জন শিক্ষককে বেতন দিতে পারছি না গত পাঁচ মাস ধরে। এ অবস্থা মাগুরার সব কেজি স্কুলেরই। ১৪৫টি কেজি স্কুলের ১১টিই বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো বন্ধের অপেক্ষায়। এমন অবস্থায় এবার ঈদ এসেছে আমাদের জন্য একরাশ দুঃখ নিয়ে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা একটি স্মারকলিপি আমাকে দিয়েছে। আমি তা যথাযথ মহলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি।







