বাবার সঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলো সাত বছর বয়সী জুবায়ের। কিন্তু কে জানতো এটাই তার জীবনের শেষ নামাজ হবে। নিভে যাবে জীবন প্রদীপ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এশার নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণে জুবায়েরের মৃত্যু হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় তার বাবা জুলহাস (২৮)। বর্তমানে তিনি শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নিহত জুবায়েরের বাবার বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের বাহেরচর বাজারে এবং মা রাহিমা বেগমের বাড়ি একই ইউনিয়নের গন্ডাদুলা গ্রামে। বাবা-মায়ের সঙ্গে জুবায়ের আর পটুয়াখালী বেড়াতে যাবে না।
মসজিদে যাওয়ার আগে জুবায়ের মাকে বলেছিলো, ‘মা, টিভি বন্ধ করো না’। মসজিদ থেকে ফিরে এসে আবার টিভি দেখতে চেয়েছিলো সে। তাই টিভি বন্ধ করেননি মা। কিন্তু মিনিট বিশেক পরই মা জানতে পারেন সেই হৃদয়বিদারক খবর, তার বুকের মানিক আর টিভি দেখতে আসবে না। একমাত্র সন্তান কখনও আর ফিরবে না বাসায়। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পাগলের মতো মসজিদের দিকে ছুটে যান মা রাহিমা।
ঘটনাস্থলে গিয়ে মা রাহিমা বেগম জানতে পারেন, তার ছেলে আর স্বামীকে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, এই হাসপাতাল থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঢাকায়। ভর্তি করা হয়েছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। রাত ১০টার পর রাহিমা আসেন ঢাকায়। তখন আগুনে পুড়ে যাওয়া আদরের সন্তান জুবায়ের আর স্বামীকে দেখতে পান তিনি।
এসময় ছেলে জুবায়েরের সঙ্গে কথা বলেন মা। মায়ের দেওয়া এক ঢোঁক পানি পান করে জুবায়ের। এরপর রাত একটার দিকে মারা যায় সে।
জুবায়ের মা-বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতো। তার বাবা নারায়ণগঞ্জে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
রাহিমা বলেন, ‘আমার বুকের ধন আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? আমার সোনার সংসার তছনছ হয়ে গেল।’
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাঙ্গাবালীর আরও একজন মারা গেছেন। তার বাড়ি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামে। তার নাম জামাল রাঢ়ি (৪০) বাবার নাম বেলায়েত রাঢ়ি। তিনিও পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন। তার লাশও রাঙ্গাবালীতে আনা হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
মারা গেলেন সেই মসজিদের ইমামও, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১
বাবার সঙ্গে প্রতিদিন নামাজে যেত শিশু জুবায়ের
‘আমার কলিজার টুকরারা চইল্লা গেলো’








