নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চাপ দিয়ে সব জমি লিখে নেওয়ার পর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ নিজ ঘর থেকে নিজাম উদ্দিনের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি ওই গ্রামের ফকির সরদারের ছেলে।
বাগাতিপাড়া থানার ওসি নাজমূল হক মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের ভাতিজা মিঠুন আলী জানান, তার চাচার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে লিজাকে বিয়ে দিয়ে বাড়ির পাশেই নিজ জমি লিখে দিয়েছেন। তারা ওখানেই থাকে। ছোটমেয়ে লিপিকে একই উপজেলার লোকমানপুরে বিয়ে দেওয়া হয়।
মিঠুন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ছেলে না থাকায় চাচা মারা গেলে সম্পত্তির ভাগ স্বজনরা পাবেন, এমন দাবি করে নিজাম চাচাকে জমি লিখে দিতে একের পর এক চাপ দিতে থাকেন পেয়ারা বেগম ও তার দুই মেয়ে। চাপে পড়ে চাচা সব জমি (৪-৫ বিঘা) লিখে দেন। জমি লিখে নেওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন চাচী। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় নিজাম চাচাকে মারপিট পর্যন্ত করা হয়। শনিবারও দুই মেয়েসহ চাচী পেয়ারা বেগম চাচাকে মারপিট করার এক পর্যায়ে তিনি মারা গেলে এটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।
মিঠুন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা চাচার গলা ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিবেশী আব্দুল মতিন জানান, নিহতের গলায় তারা আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে বাগাতিপাড়া থানার ওসি নাজমূল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিহতের স্ত্রী ও দুই মেয়ে বলেছেন নিজাম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক। তারপরও স্বজনদের আপত্তি থাকায় ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, নিহতের স্ত্রীর দাবি নিজাম শুক্রবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর জন্যই গলায় দাগ দেখা গেছে। তারপরও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।








