শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করবো ব্যালটের মাধ্যমে, হত্যার মাধ্যমে নয়। হত্যা কোনোদিন রাজনৈতিক সমাধান আনতে পারে না। এটা প্রমাণিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিরাও হত্যাকে সমাধান ভেবেছিল। সমাধান হয় নাই। লোকমানের (নরসিংদীর প্রয়াত মেয়র) খুনিরাও তাই প্রমাণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু পারে নাই। নরসিংদীর জনগণ বুঝিয়ে দিয়েছে হত্যাকারীদের জনগণ গ্রহণ করে না।’
শনিবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আযোজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগে কোনও বিভক্তি নেই উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন ঐক্যবদ্ধ। দলে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। এখানে সবাই এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান কিংবা মেয়র হবে না। আজকে যারা অন্যভাবে কাজ করছেন, দলে বিভেদ তৈরি করছেন, ষড়যন্ত্র করছেন, তারা প্রত্যক্ষভাবে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছেন। নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী ছিল, তাকেই ইচ্ছে করলেই মুছে দেওয়া যাবে না। আজকে তার নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে এসেও নরসিংদীর মানুষ তা প্রমাণ করেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নরসিংদীতে আজকে যিনি দলের সভাপতির দায়িত্বে আছেন আমি তাকে আহ্বান জানাবো, আপনি কারও প্ররোচনায় ভুল করবেন না। আপনি আপনার জায়গায় সভাপতি আছেন। আপনি জনগণের কাছে যাবেন। আমরাতো জনগণের সঙ্গে আছি। আপনার কোথায় ব্যথা, কোথায় কষ্ট, জনগণের মঞ্চে এসে বলেন। আওয়ামী লীগ কোনও সর্বহারা পার্টির দল না, কোন মিলিটারি শাসকের দল না। এটা জনগণের দল। এখানে গণতন্ত্র চর্চা হয়। কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায় আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
নরসিংদী পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী- ২ (পলাশ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ, নরসিংদী- ৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঞা মোহন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও প্রয়াত লোকমান হোসেনের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউছার।
স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন মনোহরদী পৌর মেয়র আমিনুর রশীদ সুজন, ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরীফুল হক, পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদসহ বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এবং সকল সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। স্মরণসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও লোকমান অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন।







