যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বেতালপাড়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় আওয়ামী লীগ কর্মী খালেদুর রহমান টিটো নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) দিলু পাটোয়ারী ও তার ভাই নূর মোহাম্মাদ পাটোয়ারীসহ ১৭ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটকও করেছে পুলিশ।
নিহতের ভাই বদর উদ্দিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে বাঘারপাড়া থানায় এ মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ কর্মী খালেদুর রহমান টিটো (২৪) উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকের কর্মী হয়ে কাজ করছিলেন। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে তিনি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী বেতালপাড়া বাজারে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলু পাটোয়ারীর কর্মী সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন টিটো। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বাঘারপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন জানান, বৃহস্পতিবার নিহত টিটোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে দাফন করেছে তার পরিবার। রাতে তার ভাই ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্য থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে টিটো হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা। জহুরপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীরা টিটোর ‘হত্যাকারী’ দিলু পাটোয়ারী ও তার ভাই নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারীর ফাঁসি দাবি করেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে জহুরপুর ইউনিয়নের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
আরও পড়ুন:
বাঘারপাড়ার চেয়ারম্যান নৌকার ভিক্টোরিয়া








