সম্পত্তি নিয়ে বিরোধেই বৃদ্ধা জমিলাকে হত্যা: পিবিআই

গাজীপুর প্রতিনিধি
০৮ জুলাই ২০২১, ২২:৫৪আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ২২:৫৪

গাজীপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণেই বৃদ্ধা জমিলা খাতুনকে (৬৭) প্রাক্তন পূত্রবধূ ও নাতিরা হত্যা করে। হত্যার প্রায় ছয় মাস পর এ রহস্য উন্মোচন করেছে গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (জুলাই) বিকালে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

জমিলা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কুনিয়া তারগাছ এলাকার মৃত আসকর আলী বিএসসির স্ত্রী।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জানান, গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া তারগাছ এলাকার আসকর আলী জীবিত থাকা অবস্থায় দুই নাবালক নাতি (বড় ছেলে আশরাফুজ্জামান সেলিমের সন্তান) আশিকুজ্জামান দীপ্ত ও শাকিরুজ্জমান অর্কের নামে নিজস্ব পাঁচতলা একটি ভবন হেবাদানপত্র করে দেন। ওই হেবাদানপত্র দলিলে আমমোক্তার নামায় ওই দুই সন্তানের বাবা সেলিমের নাম ছিল। ২০১৮ সালে সেলিমের সঙ্গে তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার লিলির (৪৫) বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর পর নাছিমা সন্তানদের নিয়ে এই বাড়িতেই অবস্থান করতে থাকেন। সন্তানরা সাবালক হওয়ার আগেই ২০১৯ সালে সেলিম ওই বাড়ি তার মা জমিলা খাতুনের নামে সাবকবলা দলিল করে দেন। এতে সম্পত্তি নিয়ে তাদের মাঝে বিরোধ দেখা দেয়।

তিনি আরও জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে গাছা থানা এলাকায় বাড়ির পার্শ্ববর্তী মার্কো সিএনজি পাম্পের সামনে জমিলা খাতুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার প্রাক্তন পূত্রবধূ নাসিমা ও দুই নাতি মো. আশিকুজ্জামান দীপ্ত (১৯) ও শাকিরুজ্জমান অর্ক (১৭)। তারা জমিলা খাতুনকে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পায়ের হাঁড় ভেঙে ফেলে এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় তার কাছে থাকা এক লাখ টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরে আহত জামিলা খাতুনকে ধরে রাস্তায় ফেলে দেয় তারা। গুরুতর আহত তাকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে মো. শহীদুজ্জামান সুমন বাদী হয়ে নাসিমা আক্তার লিলি ও তার দুই সন্তানসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে গাছা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির প্রায় চার মাস তদন্তকালে কোনও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি গাছা থানা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর এ খুনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাজীপুরের পিবিআইকে। পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ ঘটনায় কারাবন্দি নাসিমা আক্তার লিলিকে গত ৫ জুলাই আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জমিলা খাতুনকে খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নাসিমা।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধে নাসিমা তার শ্বাশুড়িকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্বাশুড়ি মারা যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি। তাকে বুধবার গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের