ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ-দুর্ঘটনায় ২২ ঘণ্টা পর দুর্ঘটনাকবলিত নৌকাটি উদ্ধার না করেই অভিযান সমাপ্ত করেছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শনিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নৌ-দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান মো. রহুল আমীন বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরিরা তল্লাশি করে কোনও লাশ নেই বলে আমাদের জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে দুর্ঘটনা কবলিত নৌকাটিকে পানির নিচে শনাক্ত করার পর সেটিকে টেনে তীরের কাছে আনা হয়। পরে ডুবন্ত স্থানে বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরিরা বাঁশ লাল নিশান টানিয়ে দেন।’ কোনও লাশ না থাকায় দিনের শেষে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শনিবার সকাল থেকে তারা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। দুর্ঘটনা কবলিত নৌযানটির ফিটনেস ছিল কিনা, ডিজাইনে ত্রুটি ছিল কিনা, ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ছিল কিনা সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করা হবে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং তদন্ত কমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল রেজা জানান, দুর্ঘটনার পর বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রলারের চালকসহ পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। এরপর সাত জনের নাম উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর থানায় মামলা করা হয়। এ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত পরিবারের স্বজন বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের গেরাগাও গ্রামের মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। দুর্ঘটনায় এজাহারনামীয় অপর দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অজ্ঞাত আরও আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় এই অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটিকে উদ্ধারে চেষ্টা করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএ’র ভৈরব এবং আশুগঞ্জ নৌবন্দরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দবাজার এবং বিজয়নগরের চম্পকনগর নৌপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর নিবন্ধন নেই। চালকদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। এছাড়া নৌযানগুলো ফিটনেসহীন অবস্থায় চলাচল করছে বলে মনে হচ্ছে।’ তিনি জানান, এই নৌপথে চলাচলকারী প্রত্যেক নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৫০ জনের মতো যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শনিবার সকাল পর্যন্ত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) রাতে ১৮ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।









