X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

অনার্স ভর্তিতে ডোপ টেস্ট ফি হাজার টাকা, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪২

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার আসনে ভর্তি হতে অসংখ্য শিক্ষার্থী ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ছুটছেন। তবে এ টেস্টের জন্য অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হওয়ায় দরিদ্র অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

কলেজ সূত্র জানায়, গত ২ জুন ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর গত ২৯ আগস্ট দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রধান এবং মাঠ পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়। এ চিঠি অনেক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেনি। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কর্তৃপক্ষ চিঠি পেয়ে অনার্সে ভর্তিচ্ছুদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে। এ কলেজে প্রায় সাড়ে চার হাজার ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে। তবে সরকারি শাহ্ সুলতান ও সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে ডোপ টেস্ট ছাড়াই ভর্তি করা হচ্ছে। এই দুটি কলেজে এবার অনার্সে যথাক্রমে এক হাজার ৯২০ জন ও এক হাজার ১৪০ জন ছাত্রছাত্রী নেওয়া হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে শাহ্ সুলতান কলেজে লিখিত ও মহিলা কলেজে মৌখিকভাবে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজে অনার্স ভর্তিচ্ছুরা ডোপ টেস্টের জন্য শহরের সরকারি, বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভিড় করছেন। ডোপ টেস্টের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯৫০ টাকা, সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৯০০ টাকা এবং বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা চার্জ নেওয়া হচ্ছে। তবে ভর্তির সময় কম থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়েও তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্টের জন্য রক্ত ও প্রস্রাব দিতে হচ্ছে।

টেস্টের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করতে হওয়ায় দরিদ্র অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে পত্রিকা অফিসে এসে বা সাংবাদিকদের ফোনে তাদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন। যুগল চন্দ্র নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, তার মেয়েকে সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি করাতে চান, কিন্তু ডোপ টেস্ট করাতে হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করতে আসা শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, রবিউল আলম, অনন্যা তাবাসসুম অভিযোগ করেন, অন্য কলেজে ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে না। অথচ আজিজুল হক কলেজে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক। হাতে সময় কম। তারপরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ডোপ টেস্ট করতে হচ্ছে।

রাশেদুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক জানান, ডোপ টেস্ট ভালো উদ্যোগ। তবে ফি বেশি হওয়ায় তার মতো অনেক অভিভাবককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও সময় না থাকায় তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেন জানান, তারা কোনও চিঠি না পাওয়ায় ডোপ টেস্ট ছাড়াই ভর্তি করছেন। তবে ছাত্রীদের কাছে পরবর্তী সময়ে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট জমা দিতে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করানো হচ্ছে।

সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আগামীতে ডোপ টেস্ট করতে বাধ্য থাকবে এমন লিখিত অঙ্গীকার নিয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে। শুধু তারা নন, দেশের অনেক কলেজে ডোপ টেস্ট করিয়েই অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।

/এমএএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বেপরোয়া গতি, ১৭ মাসে ঝরেছে ১৬২ প্রাণ
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কবেপরোয়া গতি, ১৭ মাসে ঝরেছে ১৬২ প্রাণ
গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে
গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে
তারেক জিয়াকে দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে: তথ্যমন্ত্রী 
তারেক জিয়াকে দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে: তথ্যমন্ত্রী 
যে ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র চায় ইউক্রেন, দিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র
যে ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র চায় ইউক্রেন, দিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে হামলায় আহত ৬ সাংবাদিক
রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে হামলায় আহত ৬ সাংবাদিক
রাজশাহীতে নাশকতার মামলায় সাংবাদিক গ্রেফতার
রাজশাহীতে নাশকতার মামলায় সাংবাদিক গ্রেফতার