দুই মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে অচল অবস্থা কাটিয়ে পুনরায় শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যাত্রী চলাচল কমে যাওয়ায় লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সমস্যায় পড়েন স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা। ঢাকা ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে যেসব লোকাল বাস সার্ভিস ঘাট পর্যন্ত চলাচল করতো, সেগুলো পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে সেবা বন্ধ করে। তবে যাত্রী ভোগান্তি নিরসন, নৌযানগুলোর পুনরায় চলাচল এবং ঘাটমুখী বিভিন্ন পেশার জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতেই বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে শিমুলিয়া ঘাটমুখী বিভিন্ন লোকাল বাস মালিক সমিতি, স্পিডবোট মালিক সমিতি, লঞ্চ মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সব ইজারাদার একমত পোষণ করেন।
স্পিডবোট মালিক দিলীপ চন্দ্র দাশ বলেন, ‘এই দুই মাস আমাদের চলতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এই ঘাট পুনরায় চালু করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ, স্পিডবোট চালিয়ে আমাদের সংসার চালাতে হয়।’
ঢাকা থেকে লৌহজং রুটের গাংচিল পরিবহনের সভাপতি রুহুল মোড়ল বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে মাওয়ায় তেমন যাত্রী না থাকায় এই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগামীকাল থেকে ঢাকা থেকে শিমুলিয়া ঘাটে বাস চলাচল শুরু হবে। আমাদের ৭০টি বাস রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে তেমন যাত্রী না থাকায় ঢাকা থেকে লৌহজং পর্যন্ত ৩০-৩৫টি বাস চলাচল করে। আর মাওয়া থেকে বাস চলাচল করলে আমাদের বাসগুলোকে আর বসে থাকতে হবে না।’
মাওয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর শিমুলিয়া ঘাট প্রায় যাত্রীশূন্য হয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল করবে এজন্য আমাদের মনে আশা জেগেছে। আমাদের ঘাটে প্রায় অর্ধশত লঞ্চ রয়েছে। আশা করি, আমরা ভালো করে যাত্রী সেবা দিতে পারবো।’
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথ। এ কারণে ওই ঘাট থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।









