অনাবাদি জমির উপযোগী গম-ভুট্টার জাত উদ্ভাবনের কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। যেসব জমিতে ধান আবাদ হয় না সেসব জমির উপযোগী জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন তারা। ফলে ধানের জমিতে গম ও ভুট্টা আবাদ নয়, বরং যেসব জমিতে ধান আবাদ হয় না সেসব জমিতে এই দুটি ফসল উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তারা বলছেন, গবেষণা কার্যক্রম চালাতে জমির প্রয়োজন। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জমির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। চিনিকলের অব্যবহৃত ২০০ একর জমি পাওয়া গেলে সেখানেই গবেষণা কার্যক্রম চালানো হবে।
গত সোমবার (১ মে) বিকালে দিনাজপুর বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ সাজ্জাদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস ও সিমিটের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. টিমোথি জে. ক্রুপনিক। এর আগে সকালে সচিবসহ কৃষি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভুট্টাক্ষেত, ফলন ও উৎপাদন এলাকা পরিদর্শন করেন। দুপুরে ভুট্টার মাঠ দিবস কার্যক্রমে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
এ সময় বলা হয়, উন্নত জাতের বীজ উৎপাদনের জন্য জমির প্রয়োজন। জমি পর্যাপ্ত না থাকায় বীজ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উন্নত জাত উদ্ভাবন করেও সেটির সুফল ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যদি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিতে বীজ সরবরাহ করা হয়, তাহলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহ করা যাবে। এতে দেশে গম ও ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং যে আমদানি নির্ভরতা রয়েছে তা কমে আসবে। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা যেসব উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন মাঠে তার ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকদের মধ্যেও উন্নত এসব জাতের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। ফসল দুটির আবাদ বৃদ্ধি এবং কৃষকদের বীজ সরবরাহ করতে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।









