কুমিল্লায় আদর্শ সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হককে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পরদিন শনিবার (২০ মে) কুমিল্লার কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন এনামুলের বাবা আবদুল ওয়াদুদ। কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ সনজুর মোর্শেদ জানান, মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন। গ্রেফতার দুজন হলেন– এজাহারনামীয় ৭ নম্বর আসামি মৃত কাজী মুত্তালিবের ছেলে কাজী নিজাম উদ্দিন (৫২) এবং এজাহার নামীয় ১০নং আসামি মৃত তুয়াচিন মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (৪৫)।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’
মামলার এজাহার নামীয় অন্য আসামিরা হলেন– স্থানীয় আব্দুল খালেকের ছেলে কাজী জহিরুল ইসলাম (৪০), কাজী আমিনুল ইসলামের ছেলে কাজী আমান উল্লাহ (২৭), জাকির হোসেনের ছেলে আবু সাঈদ (২৩), মৃত কাজী আব্দুল খালেকের ছেলে এনামুল হক (৩৮) ও নাজমুল হক (৪২), আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে আতিকুর রহমান পাভেল (৪৫), জয়নাল আবেদীনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৫) ও কেরামত আলির ছেলে এয়ার আহমদ (৪৮)।
জানা গেছে, নিহত এনামুল হক দূর্গাপূর ইউনিয়নের আলেখারচর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে, শুক্রবার (১৯ মে) দুপুরে দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আলেখারচরে জুম্মার নামাজ শেষে এনামুল বের হলে প্রতিপক্ষের জহির ও তার লোকজন তাকে টেনেহিঁচড়ে মজিদের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে তার গলায় ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে প্রথমে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিকাল ৩টার দিকে হাসপাতালে এনামুল মারা যান।
জানা গেছে, এনামুলের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত।









