কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নে ঘর থেকে এক নববধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের তেলিপাড়া গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উলিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তামবিরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নববধূর নাম রোকাইয়া আক্তার রিংকি (১৮)। তিনি তেলিপাড়া গ্রামের এনজিওকর্মী রেজাউল করিমের মেয়ে। এক সপ্তাহ আগে অসুস্থ দাদিকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসেন তিনি।
তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও রেজাউল করিমের প্রতিবেশী মুকুল জানান, ছয় মাস আগে উপজেলার মাঝবিলের বাসিন্দা এক সেনা সদস্যের সঙ্গে রিংকির বিয়ে হয়। এক সপ্তাহ আগে তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত রাতে বাড়িতে তার বাবা-মা ছিলেন না। কিন্তু তার দাদা-দাদি ও ছোট ভাই ছিলেন। রাতের খাবার শেষে রিংকি নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। সকালে ঘর থেকে বের না হওয়ায় বাড়ির লোকজন ওই ঘরের আরেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। তবে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে কোনও কিছু ধারণা করতে পারছে না এলাকাবাসী।
রিংকির বাবা রেজাউল করিমের বরাতে তার কর্মস্থলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কী কারণে রিংকিকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিয়ে পরিবারের লোকজন কোনও ধারণা করতে পারছে না। তার বাবা কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। এজন্য বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
তামবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ লাশের গলার ডানদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, নিহতের সঙ্গে কারও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কাল রাতে বাড়িতে বাবা-মা না থাকার সুযোগে তার সঙ্গে কেউ দেখা করতে এসেছিল। আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আশা করছি, হত্যাকাণ্ডে জড়িতকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারবো।’








