রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাওসার জামান বাবলার নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে একটি পরিবারের জমি দখল, হামলা ও ভাঙচুরসহ তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তার ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিখা রানী অধিকারী ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা বিএনপি নেতা বাবলার অত্যাচার থেকে রক্ষা এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগে শিখা রানী জানান, মাহিগঞ্জ এলাকার মানিক অধিকারীর সঙ্গে ১২ বছর আগে তার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। তার শ্বশুর ডা. মধুসূধন রায় একজন হোমিও চিকিৎসক। তার শ্বশুর ও জ্যাঠাশ্বশুর মহেন্দ্র অধিকারী দুই ভাই মিলে ১৯৭২ সালে ৩৬ শতক জমি কিনে দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। জ্যাঠাশ্বশুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। এখন অবসর নিয়ে রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
হঠাৎ ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা কাওসার জামান বাবলা এবং তার শ্বশুর জামাল সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেয়। তিনি দাবি করেন, ৩৬ শতক জমির মধ্যে তিনি ১৮ শতক কিনেছেন। এ সব কথা বলার পর বাবলার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে গাছপালা কেটে নিয়ে যায় এবং মালামাল ভাঙচুর করে। বাবলা আরও দাবি করেন, তিনি ওই ১৮ শতক জমি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। পরে খোঁজ নিয়ে এবং রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের কপি নিয়ে জানতে পারেন, জমিটি তিনি ২২ লাখ ৪৩ হাজার টাকায় কিনেছেন জ্যাঠাশ্বশুরের কাছ থেকে।
শিখা রানী বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমার শ্বশুর ডা. মধুসূধন অধিকারী ও আমার স্বামী মানিক অধিকারী আদালতে ২২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং ভ্যাট-ট্যাক্সসহ পুরো টাকা জমা দিয়ে প্রিয়েমশনের মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই জমিতে কাওসার জামান বাবলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তিনি বলেন, ‘এদিকে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বিএনপি নেতা বাবলা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেন, তাদের দল এখন ক্ষমতায়– কোনও মামলা মানেন না, জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। গত ১২ আগস্ট মাহিগঞ্জ বাজারে আমার শ্বশুরের চেম্বারে এসে হুমকি দেয়, “মানিক অধিকারী কোথায়? সে যদি আমার বাসায় এসে মামলা করার ব্যাপারে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চায়, তাহলে দেশের বিভিন্ন জেলায় জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে নিহত ও আহতের ঘটনায় আসামি করে জেলে ঢুকিয়ে পচাবো।” পরের দিন ১৩ আগস্ট আবারও বিএনপি নেতা বাবলা ও তার শ্বশুর জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এসে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে বাড়ির টিনের সীমানা বেড়া ভেঙে ফেলে। বাড়িতে লাগানো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে জমি জোর করে দখল করে আমাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে মহানগর বিএনপি ও জামাযাতের নেতারা আমাদের বাড়িতে এসে বাবলার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সমবেদনা জানান। পুলিশ ও সেনাবাহিনী আমাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এ ব্যাপারে মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটান থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানার ওসি রওশন কবীর আমাদের অভিযোগটি বিএনপি নেতা বাবলার প্রভাবে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করেননি।
‘আমাদের পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্য বিএনপি নেতা বাবলা মহানগর বিএনপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে আমার স্বামীর নামে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ফল ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হত্যাসহ আরও তিনটি মামলায় আসামি করিয়েছেন। যাতে আমরা আমাদের দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে বসবাস করা বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাই। এই মামলা দায়ের করিয়ে বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন বিএনপি নেতা বাবলা ও তার শ্বশুর জামাল। মামলা হওয়ার পর থেকে আমার স্বামী মানিক অধিকারী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি নেতা বাবলা বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও মামলায় ফাঁসিয়ে আমাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে শিখা রানী বিএনপি নেতা বাবলার অপকর্ম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সেই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের কাছে বিচার দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে শিখার দুই সন্তান লগ্নজিতা ও মাহিন, আইন অধিকার ফাউন্ডেশনের আমিনুল ইসলাম পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শান্তি রানীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে বিএনপি নেতা বাবলার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে মানিক অধিকারীকে তিনটি মামলায় ফাঁসানোর ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি।









