বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরপরই ঘোষিত কমিটি থেকে এক যুগ্ম আহ্বায়কসহ একাধিক সদস্যের পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে। কমিটি ঘোষণার পর শনিবার (৩০ নভেম্বর) তারা ফেসবুকে নিজ নিজ আইডিতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে পোস্ট করেন। পরে কমিটির একাধিক দায়িত্বশীলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন– কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শিফা নুর জাহান, সদস্য মাজু ইব্রাহীম এবং আরেক সদস্য শিপন সরকার।
শিফা নুর কুড়িগ্রাম জেলা শহরের আলিয়া কামিল মাদ্রাসার স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাজু ইব্রাহীম জেলার চিলমারী উপজেলার বাসিন্দা এবং লালমনিরহাটের একটি কলেজে স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর শিপন সরকার কুড়িগ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে কমিটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২৩১ সদস্য বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়। কমিটিতে আবদুল আজিজ নাহিদকে আহ্বায়ক, ফয়সাল আহমেদ সাগরকে সদস্যসচিব, সাদিকুর রহমানকে মুখ্য সংগঠক ও জান্নাতুল তহুরাকে মুখপাত্র করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৮ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব, ৩২ জনকে সংগঠক এবং ১৬৫ জনকে সদস্য করা হয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্যসচিব আরিফ সোহেল ছয় মাসের জন্য এই কমিটি অনুমোদন করেছেন।
এদিকে, কমিটি প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন একমাত্র নারী যুগ্ম আহ্বায়ক শিফা নুর জাহান। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ফেসবুকের নিজের আইডিতে জানান এই আন্দোলনকর্মী।
একই কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিজ নিজ আইডিতে পোস্ট করেন ঘোষিত কমিটির সদস্য মাজু ইব্রাহীম ও শিপন সরকার। এই দুই সদস্য দাবি করেছেন, কমিটির সদস্য পদে কীভাবে তাদের নাম এসেছে তারা তা জানেন না।
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে যুগ্ম আহ্বায়ক শিফা নুর জাহান বলেন, ‘পারিবারিক অসম্মতি ও ব্যক্তিগত কারণে আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়কের পদে থাকতে পারছি না। বিষয়টি কমিটির এক দায়িত্বশীলকে জানিয়েছি। এই মুহূর্তে বিকল্প উপায় না থাকায় নিজ আইডিতে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি।’
সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া মাজু ইব্রাহীম বলেন, ‘সামনে আমার পরীক্ষা। ফরম পূরণ হয়েছে। পরীক্ষার পর ঢাকায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সময় দিতে পারবো না। তাই স্বেচ্ছায় পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রয়োজন হলে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেবো।’
কমিটিতে নাম থাকার বিষয়ে পূর্ব সম্মতি নেওয়ার প্রশ্নে মাজু বলেন, ‘আমার কাছে অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনেকদিন আগে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন বলেছিলাম “যখন কমিটি হবে তখন দেখা যাবে”।’
একই দাবি করে পোস্ট দিয়েছেন পদত্যাগী আরেক সদস্য শিপন সরকার। তিনি ফেসবুকে নিজ আইডিতে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে আমি সরে এসেছি। কমিটিতে সদস্য পদ কীভাবে এসেছে সেটা আমার জানা নেই।’ তবে শিপন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আবদুল আজিজ নাহিদ বলেন, ‘সবার অনুমতি নিয়ে কমিটিতে নাম দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র কমিটি ঘোষণা করেছে। অনুমতি না নেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘোষিত কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে এখন পর্যন্ত (রবিবার সন্ধ্যা) আমাদের সঙ্গে কেউ আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেননি। আমরা একটা গেট টুগেদারের আয়োজন করছি। তখন সবার কাছে এসব বিষয়ে পরিষ্কার জানা যাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল আজিজ নাহিদ বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোনও অসন্তুষ্টি নেই।’









